ভাদেশ্বর মোকামবাজার-পুরকায়স্থবাজার রাস্তা ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

সুলতান আবু নাসের, গোলাপগঞ্জ: গোলাপগঞ্জ উপজেলার জনগুরত্বপূর্ণ সড়ক ভাদেশ্বর মোকামবাজার থেকে পুরকায়স্থবাজার রাস্তার দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারের অভাবে এখন বেহাল দশা। ভূক্তভোগীরা জানান দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কোন রকম সংস্কার কাজ না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার অনেক অংশে পিচ উঠে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।
বর্ষাকালে কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধূলোর রাজ্য মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে এ অঞ্চলে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ সাধারণ জনগনকে তীব্র ভোগান্তির পাশাপাশি যানবাহনে চলাচল করতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।
তবে সংশ্লিষ্টসূত্র জানায় ইতিমধ্যে এই রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে। নভেম্বরেই আগেই এ রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাদেশ্বর মোকামবাজার থেকে পুরকায়স্থবাজার পর্যন্ত অনেক জায়গায় পিচ ডালাই উঠে গিয়ে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার মধ্যে সৃষ্ট গর্তে বৃষ্টির পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। সবচেয়ে বেহাল দশা হওয়া ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগ এলাকায় প্রায় যানবাহন চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় বাড়তি ভাড়া দিয়েও গাড়ী না পেয়ে পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল চলাচল করতে হয়।
অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভাদেশ্বর মহিলা কলেজ, ভাদেশ্বর সলিমা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ভাদেশ্বর মকবুল আহমদ আইডিয়াল একাডেমী, ভাদেশ্বর মডেল ফাযিল মাদ্রাসা, ভাদেশ্বর হাফিজিয়া মাদ্রাসা, ভাদেশ্বর আলহেরা হফিজিয়া মাদ্রাসা, ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, খানম আহমদ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, কচিঁকন্ঠ শিশু বিদ্যালয়, কুড়িঁবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থীসহ হাজারো লোকজন যাতায়াত করে।
বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে শিশু ও বয়স্কদের যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা তরুণ সমাজকর্মী সাজ্জাদ আহমদ জানান, দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিশেষ করে এ রাস্তা দিয়ে রাতের বেলা চলতে গিয়ে গর্তে পড়ে প্রতিদিন পথচারীদের দূর্ঘটনার শিকারসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসময় এলাকাবাসী দাবি জানান যত দ্রুত সম্ভব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে জনদূর্ভোগ লাঘব করা হোক। এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান বলেন, এ রাস্তা সংস্কার কাজে ঠিকাদার ইতিমধ্যে টেন্ডার করেছেন।
বর্তমানে দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন আছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি সংস্কার হবে।









