অপকর্ম ঢাকতে ভাসুর-দেবরের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ

টাইম ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪৬:১৯,অপরাহ্ন ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৪১৯ বার পঠিতসিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউনিয়নের বিরাহিমপুর গ্রামের এক বিধবা মহিলা তার অপকর্ম ঢাকতে ভাসুর ও দেবরের বিরুদ্ধে জায়গা দখল ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ অভিযোগের ব্যাপারে গতকাল ২ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে বিরাহিমপুর পঞ্চায়েতের মরুব্বীবৃন্দ এক সভায় মিলিত হন। সভায় মুরুব্বিয়ান মৃত জুনাব আলীর স্ত্রী শেফা বেগম (৪০) এর অভিযোগটি মিথ্যা বলে মত প্রকাশ করেন। তারা এ ধরনের অভিযোগ দিয়ে গ্রামের সুনাম ক্ষুন্ন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, গত ৩০ আগস্ট শুক্রবার বিধবা শেফা বেগমের বসত ঘরে ঢুকে ভাসুর আছকর আলী, দেবর সাজ্জাদ আলী ও আছকর আলীর ছেলে সামেল আহমদ নির্যাতন চালায় এমন অভিযোগ এনে শেফা বেগম মোগলাবাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
শেফা তার অভিযোগে জানায়, স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা ছিনিয়ে নিতে একাধিকবার তার উপর নির্যাতন করছে ভাসুর ও দেবর। তারা দু’ভাই মিলে মৃত ভাইয়ের বসতভিটা দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত ২৮ আগস্ট বুধবার ভোররাতে বিরাহিমপুর গ্রামের মনু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শেফার ঘরে দেখতে পান ভাসুর আছকর আলী। তিনি মনুকে এ বাড়িতে না আসার জন্য নিষেধ করেন। নিষেধ করার পর মনু ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামের কয়েক জনের কাছে বিচার প্রার্থী হয়।
গত ৩১ আগস্ট মুরুব্বিয়ানগণ বিচারের দিন ধার্য্য করেন। কিন্তু বিচারের আগেই ৩০ আগস্ট মনুর পরোচনায় শেফা নাটকিয় পদ্ধতিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
আরো জানা যায়, দীর্ঘ দিন আগে মনুকে তার কার্যকলাপের জন্য পঞ্চায়েত থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর পঞ্চায়েতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে গতবছর মনু পঞ্চায়েতে আসে। তাছাড়া একবছর আগেও রাতের বেলা শেফার ঘরে এক যুবকে পাওয়া যায়। পরে গ্রাম ও বাড়ির সম্মানার্থে বিষয়টি নিরবে আপোষ মিমাংসা করা হয়।
প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বিধবা শেফা বেগম তার ভাসুর ও দেবরের পরিবারকে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শেফার স্বামীর সম্পত্তি তার ভাসুর-দেবর দখল করতে চায় এটা সঠিক নয়। বরং ভাসুর-দেবর ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় মৌরসী সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে দেয়ার পর শেফার অংশে একটি অর্ধপাকা টিনসেড ঘর তৈরী করা দেয়া হয়। এরপরও এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
পঞ্চায়েতের মুরুব্বিয়ানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মতছিল আলী, জাকারিয়া আহমদ টিপু, জিতু মিয়া, মাসুক আলী, ফুরুক মিয়া, সুলতান মিয়া ও নেফুর আলী প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ মিথ্যা অভিযোগ এনে গ্রামের সুনাম ক্ষুন্নকরার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ঘটনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি









