শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত মেয়র আরিফ
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:১৮:১৬,অপরাহ্ন ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ | সংবাদটি ৩১১ বার পঠিতওয়েছ খছরু, দলের ভেতরেই সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তার ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন সিনিয়র নেতারাও। এ নিয়ে তুমুল জল্পনা ছিল সিলেটে এই প্রশ্নের কারণে নানা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল সিলেট বিএনপিতেও। নেতারাও হয়ে পড়েছিলেন বিভক্ত। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় বিএনপি ভরসা রাখলো আরিফের ওপরই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি দেশব্যাপী যে বিভাগীয় কমিটি গঠন করেছে সেখানে সিলেট বিভাগের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। তার সঙ্গে সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে। এই কমিটি ঘোষণা পর শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিদিনই তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিষিক্ত করছেন। মঙ্গলবার গুলশান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে কমিটি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি সিলেট বিভাগীয় কমিটিও ঘোষণা দেন। সিলেট বিভাগীয় কমিটিতে আহ্বায়ক মনোনীত হয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সদস্য সচিব করা হয়েছে সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন। এছাড়া সিনিয়র সদস্য হয়েছেন- বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট ফজলুল হক আসফিয়া, তাহমিনা রুশদীর লুনা, খন্দকার মোক্তাদির হোসেন ও ড. মো. এনামুল হক চৌধুরী। এছাড়া আরো সদস্য হয়েছেন- কেন্দ্রীয় সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গউছ, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, কেন্দ্রীয় সদস্য নাসির চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ডা. শাহ্রিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহ্হের শামীম, খালেদা রাব্বানী, নাসের রহমান, এবাদুর রহমান চৌধুরী, হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শেখ সুজাত মিয়া, এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী মিসেস সামিয়া চৌধুরী, এডভোকেট আবেদ রাজা, সিলেট মহানগর বিএনপি’র সহ সভাপতি ও সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদি ও আব্দুল লতিফ। সিলেট জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদাধিকার বলে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এই কমিটি সিলেট বিভাগে বিএনপি’র কর্মসূচি আয়োজন করবে। বিভাগীয় এই কমিটিতে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট বিএনপি বর্তমানে দুই ধারায় বিভক্ত। এর মধ্যে বড় অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট-১ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন। অপর ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নানা সময় সিলেট বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দেয়। এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ দমাতে এগিয়ে আসেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সহ সিলেটের চার কেন্দ্রীয় নেতা। এক পর্যায়ে তারা ক্ষোভ-বিক্ষোভের ইতি ঘটাতে প্রয়াত নেতা এমএ হককে নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠক থেকে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও সেটি পরে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ কারণে সিলেট বিএনপি এখন দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র হওয়ার কারণে নানা সময় সরকারের কর্মসূচিতে সরব থাকতে হয়। ফলে করপোরেশনকেন্দ্রিক সকল বিষয়ে তাকে সরকারের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে হচ্ছে। এ কারনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ভূমিকা নিয়ে নানা সময় দলের ভেতরে প্রশ্ন ওঠে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন- তিনি বিএনপি’র কর্মী হিসেবে সিটি নির্বাচনে জয়লাভ করে মেয়র হয়েছেন। বিএনপি’র রাজনীতিতে তিনি জড়িত। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি তার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটি তিনি পালন করবেন। দলের সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি হাতে নেবেন বলে জানান তিনি।
দৈনিক মানবজমিন কপি









