সিলেটে নকল সোনার বার দিয়ে প্রতারক চক্র সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৫৫:৪৩,অপরাহ্ন ১৩ জুন ২০২১ | সংবাদটি ৩৬২ বার পঠিতসিলেটে আবারও সক্রিয় নকল সোনার বার দিয়ে প্রতারক চক্র। এই চক্রটি মানুষকে বোকা বানিয়ে ছিনিয়ে নেয় সহজ সরল মানুষের টাকা পয়সা স্বর্ণালংকার।
জানা গেছে, বাহনে আগে থেকেই প্রতারকচক্রের ২/১ জন সদস্য বসা থাকে৷ সাধারণ যাত্রী উঠার কিছুক্ষণ পর চালক হঠাৎ করে তাদের বলে, ভাই/আপা, আমি পড়ালেখা জানি না। আমার চাচা বা ভাই/ অন্যকিছু চিঠিসহ এই বক্সটা আমাকে দিয়েছেন/ আমি বক্সটা কুড়িয়ে পেয়েছি। দেখেন তো কী লেখা আছে?
যানবাহনের যাত্রীরা প্রতারণাপূর্ণ চিঠিটি পড়ে স্বর্ণের বারের মতো চকচকে পিতলের তৈরি বারকে মনে করে আসল সোনার বার। তখন ওই চালক এবং ছদ্মবেশী অন্য সদস্যরা যাত্রীদেরকে নকল বারটি কিনতে উদ্বুদ্ধ করে। যাত্রীরা ফাঁদে পড়লে বারটি কিনে নেন অথবা তাদের কাছে থাকা আসল গহনার বিনিময়ে নিয়ে প্রতারিত হন। এভাবে নকল সোনা বার দেখিয়ে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে আসছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারকচক্র।
তেমনি এক প্রতারকচক্রের হাত থেকে বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেলেন এক শিক্ষিকা। গত বৃহস্পতিবার (১০জুন) বিকেলে সিলেটের বালুচর এলাকা থেকে শাহী ঈদগাহ যাওয়ার জন্য অটোরিকশাতে (সিএনজি) উঠেন প্রিয়া চক্রবর্তী (ছদ্মনাম)।
বালুচর থেকে শাহী ঈদগাহ যাওয়ার জন্য গাড়িতে উঠার পর কিছু দূর চলে গেলে গাড়িতে থাকা দুই যুবক বলাবলি শুরু করে রাস্তার পাশে একজন মহিলার ব্যাগ ফেলে গেছে। অটোরিকশার চালকে গাড়িতে থাকা যুবকরা বলে উঠলো থামুন কে ব্যাগটি ফেলে গেছে। তখন চালক গাড়ি থামিয়ে নিজেই নেমে গিয়ে ব্যাগটি কুড়িয়ে আনে। গাড়িতে ব্যাগ নিয়ে আসার পর ওই দুই যুবক ও চালক ব্যাগ থেকে একটি কাগজ ও একটি স্বর্ণের ভার বের করে।
সেই কাগজে লেখা ছিল- ‘৩ ভরি স্বর্ণ ছোট ভাইয়ের জন্য পাঠিয়েছি। দুটি গলার হার ও কানের দোল বানানোর জন্য।’ তখন থেকে চালকসহ তিনজনেই বায়না ধরে কে নিবে এই স্বর্ণ। ওই যুবকদের মধ্যে কথা বলার মধ্যখানে চালক প্রিয়া চক্রবর্তীকে বলে উঠলো আন্টি আপনি নিয়ে নেন। তখন প্রিয়া বলেন, কার জিনিস এটা আমি নেব। যেখানে পেয়েছেন সেখানে গিয়ে মাইকে ঘোষণা করে মালিকে ফিরে দেওয়া উচিত। চালক বলে উঠলো যেনে শুনে ঝামেলায় জড়ানোর চাইতে আন্টি আপনি নিয়ে নেন আমাদের কমবেশ করে টাকা দিয়ে দিলে হবে।
গাড়িতে থাকা আরও দুই যুবক বলা বলি শুরু করলো যে আড়াই লাখ টাকা এই স্বর্ণের দাম। বিভিন্ন রকমের কথা বার্তা শেষে চলক বলল আপনি টাকা দিয়ে দিন বা আপনার কানের দোল দিয়ে আরও কিছু দিয়ে দেন। ঐ সময়ে গাড়িতে থাকা প্রিয়া বুঝতে পাারেন, এরা প্রতারক চক্র। তখন তিনি চালককে ইশরায় বুঝান তার কানের দোলটি সোনা নয়। এটি ইমিটেশনের দোল। এক পর্যায়ে চালককে বললেন চলেন আমার বাসা থেকে টাকা দিয়ে আমি স্বর্ণ রেখে দিবো। তখন ওই যুবকরা রাজি হয়নি। বাসা যেতে রাজি না হয়ে গাড়ি থেকে নেমে যায় দুই যুবক। আর চালক ওই স্বর্ণের ভার নিয়ে প্রিয়া চক্রবর্তী সাথে চলে আসে তার বাসার সামনে। বালুচরস্থ বাসায় চলে আসা মাত্র প্রিয়া গাড়ি থেকে নেমে গাড়ি ভাড়া দিতে সময় তার ব্যাগ থেকে মোবাইলে দিয়ে গোপনে ওই চালকের ছবি তুলে রাখেন। ছবিতে যে যুককে দেখছেন সেই হল এই প্রতারক চক্রের সিএনজি চাল।
এব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বিএম আশরাফ উল্ল্যা তাহের বলেন, আমাদের প্রত্যেক থানাকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। তাছাড়া বিট পুলিশিং মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায়, বাসা বাড়ি , সিএনজি স্ট্যান্ড সর্তক করে দেওয়া হয়েছে।
কোথাও যদি এই রকম চক্রের সন্দেহজনক বা চক্রের সদস্যরা বাসা বাড়িতে যায় তাহলে আমাদের থানাগুলোতে সাথে সাথে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।









