সিলেটে সৌখিন সংগ্রাহকদের সংগ্রহ নিয়ে প্রদর্শনী ‘আগামী প্রজন্মের কাছে এই প্রদর্শনী ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রামান্য দলিল’
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৭:৫১,অপরাহ্ন ০৫ জুন ২০২২ | সংবাদটি ২৮৭ বার পঠিত
এম আহমদ আলী,সিলেট কালেক্টরস সোসাইটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন। ৪জুন শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী সিলেটে প্রথম বারের মত সৌখিন সংগ্রাহকদের সংগ্রহ নিয়ে এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর নির্বাহী সম্পাদক গবেষক আবদুল হামিদ মানিক প্রধান অতিথি হিসেবে সকালে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
সরে জমিনে ঘুরে দেখে ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজক সং¯’া সিলেট কালেক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা.মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের সাথে এ প্রতিবেদকের আলাপকালে তিনি জানান, আগামী প্রজন্মের কাছে এই প্রদর্শনী ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রামান্য দলিল। প্রদর্শনীর আয়োজনের উদ্দেশ্য হ”েছ, সৌখিন সংগ্রাহকদের কাছে যে সব ব্যতিক্রমী জিনিষ রয়েছে তা মানুষের সামনে প্রদর্শনের সুযোগ করে দিয়ে তাদের প্রেরণা যোগানো। এ থেকে দর্শকরা অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবেন। তিনি বলেন, প্রথমবার এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আমরা দর্শকদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের চেষ্টা করবো। এবার দুর্লভ কোন জিনিষ বিক্রয়ের ব্যবস্থা ছিলনা। ভবিষ্যতে বিক্রয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।
প্রদর্শনী দেখে সিলেটের প্রবীণ ফটো সাংবাদিক ও সংগ্রাহক আতাউর রহমান আতা এ প্রতিবেদককে জানান, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা দুর্লভ চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন প্রায়ই করে থাকি। সে ক্ষেত্রে এখানে এই প্রদর্শনীর বিভিন্ন জিনিষ ব্যতিক্রম। এখানে দুর্লভ অনেক জিনিষ আগামী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এর সংগৃহীত স¤্রাট আওরঙ্গজেব এর হাতের লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ ।
এছাড়া সৌখিন সংগ্রাহকদের মধ্যে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন ডা. মোস্তফা শাহ জাহান বাহার : তিনি প্রাচীন ঘড়ি, দেয়াশলাই, প্রতœতত্ত, গ্রামেফোন বা কলেরগান প্রদর্শন করেন।
দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী : তিনি বৃন্দাবনী হুক্কা,ফারসী হুক্কা, ঘড়ি, গ্রামোফোন রেকর্ড, স¤্রাট জাহাঙ্গীর এর সময়ের রৌপ্য ও তামার কয়েন প্রদর্শন করেন।
ইসমত হানিফা চৌধুরী : তিনি ১৯৭১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দিবস এবং ব্যক্তিকে উৎসর্গকৃত উদ্বোধনী খামসহ তার সংগ্রহে থাকা (ঋরৎংঃভধু) খাম (ঊভঃ) প্রদর্শন করেন।
আবু শামীম মো. তালহা : তিনি বাংলাদেশী কয়েন মুদ্রা,বিদেশী কয়েন,পুরাতন বিদেশী কয়েন, স্বর্ণ ও রোপ্য মুদ্রা প্রদর্শন করেন।
শিশির কুমার নাথ : তিনি ১৯৭১ সালে প্রকাশিত পত্রিকা,মহান মুক্তিযোদ্ধের পোষ্টার,স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত বই ‘রক্তাক্ত বাংলা’,৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষন এর রেকর্ড, শতবর্ষী পুরাতন পুঁথি ‘কাছাছুল আম্বিয়া’ তালপাতার পুঁথি, নাগরী পুঁথি,তুলট কাগজের পুঁথি,হাতে লেখা ক্ষুদ্রাকৃতির কোরআন শরীফ, জমিদার এর খাজনা আদায় রশিদ,পূর্ব পাকিস্থান যুদ্ধ তহবিল কুপন, শতবর্ষী পুরাতন চিঠি প্রদর্শন করেন।
এফজাল আহমদ চৌধুরী : তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম টাকার নোট, ম্যাপ সেট, বাংলাদেশের স্মারক টাকার নোট, বাংলাদেশের বিভিন্ন সময় বের হওয়া টাকার নোট,বিভিন্ন দেশের টাকার নোট, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের স্ট্যাম্প প্রদর্শন করেন।
সৈয়দ মান্না বকস : তিনি ১৮৭৪ সালের ১ টাকার কাবিননামা, ১৯২২ সালের লাখ টাকার কাবিন নামা, মুঘল সম্্রাট দ্বিতীয় আকবর এর ফারসি ডকুমেন্ট, ব্রিটিশ,পাকিস্থান ও বাংলাদেশ এর ডকুমেন্ট। চুন রাখার পাত্র-১৮৭০-১৮৯০, মাটির থালা- ১৯৫০,লবনদানি- ১৯৩৫। শত বছর আগের সুরমাদানি প্রদর্শন করেন।
কাওছার আহমদ : তিনি দেশী বিদেশী ফোন কার্ড, মোবাইল রিচার্জ কার্ড,ইন্টারনেট রিচার্জ কার্ড,ডাক টিকিট ইত্যাদি প্রদর্শন করেন।
এদিকে বিশিষ্ট গবেষক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মানিক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে বলেন, আবদুল হামিদ মানিক বলেন, ইতিহাস আমাদেরকে অভিজ্ঞতা দেয় আর ঐতিহ্য আমাদেরকে দেয় সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা। এজন্যে আমাদের ঐতিহ্যবিষয়ক বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী নতুন নতুন প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে চলার প্রেরণা দেবে।
সিলেট কালেক্টরস্ সোসাইটির সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহারের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. কামাল আহমদ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কেমুসাস-এর সহসভাপতি দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, মাসিক আল ইসলাহ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, কেমুসাস-এর সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মবনু, সহ-পাঠাগার সম্পাদক ইছমত হানিফা চৌধুরী। প্রদর্শনীতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে লেখা কোরআন শরিফসহ সৌখিন সংগ্রাহকদের সংগৃহীত পুরনো দলিল, পুরনো পত্রিকা, গ্রামোফোন, ডাক টিকেট, ম্যাচের বাক্স, প্রাচীন মুদ্রা ইত্যাদি প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনীতে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এ.এস.এম. তালহা, কোষাধ্যক্ষ কাওসার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এফজাল আহমদ চৌধুরী, সদস্য শিশির কুমার নাথ, সৈয়দ মান্না বকসসহ বিভিন্ন সদস্যের সংগৃহীত সামগ্রী প্রদর্শিত হয়।









