প্রতারক চক্রের খপ্পরে পরে বালাগঞ্জের এক ইউপি সদস্য’র প্রায় ২০ লাখ টাকা খুইয়েছেন!
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩১:৪২,অপরাহ্ন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৮০৭ বার পঠিত
প্রতারক চক্রের খপ্পরে পরে
বালাগঞ্জের এক ইউপি সদস্য’র প্রায় ২০ লাখ টাকা খুইয়েছেন!
বালাগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোটাটিকর এলাকায় অভিনব প্রতারণার মাধ্যমে মিষ্টি খাইয়ে বালাগঞ্জের এক ইউপি সদস্য’র প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
১৪সেপ্টেম্বর শনিবার আনুমানিক সকালে গোটাটিকর এলাকায় জনৈক জোসোলেমান মিয়ার বাসায় এ ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, বালাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের জমসেদ আলীর পুত্র ইউপি সদস্য ফয়জুল হকের সাথে পরিচয় হয় জুবায়ের ও শহিদুলের। জুবায়ের ও শহিদুল গত তিন/চার মাস থেকে গোটাটিকর এলাকায় সোলেমান মিয়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করে আসছিল। প্রায় মাস দুয়েক খানেক আগ থেকে ফয়জুল হকের সাথে জুবায়ের ও শহিদুলের পার্টনারশিপ জায়গা জমি ক্রয়ের কথা হয় চলছিল। তিনজন মিলে দেড় কোটি টাকা দিয়ে সোলেমান মিয়ার বাসার পাশে একটি প্লট ক্রয় করবেন বলে তাদের মধ্যে কথাবার্তা প্রায় সিদ্ধান্ত হয়। গত শনিবার তিনজন মিলে প্লটের বায়না বাবদ ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা থাকায় ফয়জুল হক তার অংশের ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে গোটাটিকরে সোলেমান মিয়ার বাসায় যান। বাসায় আসার পর তিনজনের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়। জুবায়ের ও শহিদুল ফয়জুল হককে বলে আমরা আমাদের অংশের টাকা রেডি আছে, আপনার অংশের টাকা সাথে নিয়ে এসছেনতো। তখন ফয়জুল হক তার অংশের টাকা নিয়ে সাথে এসেছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে তিনজন মিলে মিষ্টি ও ঠান্ডা পান করেন। মিষ্টি ও ঠান্ডা খাওয়ার পর ফয়জুল হক মাথায় ঝিমঝিম করাতে মাথায় পানি ঢালার জন্য তিনি বাথরুমে যান।
এরইমধ্যে প্রতারক জুবায়ের ও শহিদুল ফয়জুল হক এর টাকার ব্যাগ নিয়ে সটকে পরে। বাথরুম থেকে ফয়জুল হক ফিরে এসে চোখে ঝাপসা দেখেন এবং তার টাকার ব্যাগ সহ জুবায়ের ও শহিদুলকে দেখতে না পেয়ে তিনি ঐ বাসার কেয়ারটেকারকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় , জুবায়েরকে সে চিনে বলে জানায়। তিনি সাথে সাথে মোগলাবাজার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করলে আলমপুর ফাঁড়ীর ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ রুবেল ও এএসআই আব্দুল জলিল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে সোলেমান মিয়ার বাসার কেয়ারটেকার সোলেমান মিয়ার শশুড়ের সাথে কথা বললে জানান, তিনি ভাড়াটিয়াদেরকে চিনেন এবং গত ৩ মাস থেকে তারা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে এবং বাসার ভাড়া ও বিদ্যুৎ,গ্যাস বিল পরিশোধ আছে। এসময় বাসার মালিক সোলেমান মিয়া পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অসংগতিপূর্ণ কথাবার্তা বলেন।
বাসার মালিক সোলেমান মিয়ার স্থায়ী ঠিকানা জকিগঞ্জ থানায়। তিনি গোটাটিকর এলাকায় জায়গা ক্রয় করে ৫ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণ করেন। ভবনগুলো ভাড়া দেওয়ার পর থেকে সোলেমান মিয়া ও তার শশুরের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।
প্রতারিত ফয়জুল হক জানান, ঐ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকারের যোগসাজস আছে, এবং বাসার কেয়ার টেকার সোলেমান মিয়ার শশুড়ও ঘটনার সাথে জড়িত বলে আমি মনে করি। এর কোন সুরাহা না হলে আমি নিজে বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করব।









