ফুডপান্ডায় অর্ডার, খাবার খেয়ে রেস্টুরেন্টে এসে টাকা দাবির অভিযোগ—‘চাঁদাবাজির মতো’ আচরণ নিয়ে উদ্বেগ
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪৬:০৮,অপরাহ্ন ০৮ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
সিলেটে ফুড ডেলিভারি অর্ডারকে কেন্দ্র করে কয়েকটি রেস্টুরেন্টে গ্রাহকের অসদাচরণ ও টাকা ফেরতের দাবিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ব্যক্তি অনলাইনে বিশেষ করে ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার অর্ডার করে খাবার গ্রহণের পর সরাসরি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবারের অভিযোগ তুলে টাকা ফেরত দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা রেস্টুরেন্টে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল সিলেটের মেহমান রেস্টুরেন্টে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন কাস্টমার ফুডপান্ডার মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার পর খাবার নিয়ে রেস্টুরেন্টে এসে টাকা ফেরত দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তার আচরণকে অনেকটা চাঁদাবাজির মতো চাপ প্রয়োগের সঙ্গে তুলনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
রেস্টুরেন্টের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, খাবারের অর্ডারটি যেহেতু ফুডপান্ডার মাধ্যমে করা হয়েছে, খাবার নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে ফুডপান্ডার নির্ধারিত অভিযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার কথা। রেস্টুরেন্টে এসে জোর করে টাকা ফেরত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এদিকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সিলেটের আরও কয়েকটি রেস্টুরেন্টে আলোচনা রয়েছে। রাজবাড়ী রেস্টুরেন্টের এক ব্যক্তি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত একটি গ্রুপ থাকতে পারে, যারা বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে গিয়ে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করে।
অন্যদিকে পানসী রেস্টুরেন্টের একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, তাদের রেস্টুরেন্টেও অতীতে এ ধরনের ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা একসময় হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে ওই ধরনের ব্যক্তিরা তাদের রেস্টুরেন্টে আর আসে না।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তি কখনো নিজেদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের নেতা বা কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এসব পরিচয়ের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ফুড ডেলিভারি সংশ্লিষ্ট একজন রাইডারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, খাবারে সমস্যা থাকলে গ্রাহক ফুডপান্ডার কাছে অভিযোগ করতে পারেন এবং নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি সমাধান করার কথা। গ্রাহক কেন সরাসরি রেস্টুরেন্টে গিয়ে টাকা দাবি করবেন—এ বিষয়টিও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রেস্টুরেন্ট মালিক পক্ষের বক্তব্য, খাবার নিয়ে প্রকৃত অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সমাধান করা উচিত। কিন্তু খাবার গ্রহণের পর রেস্টুরেন্টে এসে ভয়ভীতি, চাপ সৃষ্টি কিংবা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে টাকা আদায়ের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মেহমান রেস্টুরেন্টের মালিক পক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ বা জোরপূর্বক টাকা আদায়ের চেষ্টা হলে তারা বিষয়টি আর শুধু ব্যবসায়িকভাবে সমাধানের চেষ্টা না করে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেবেন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, অনলাইন ফুড ডেলিভারি ব্যবস্থায় গ্রাহক, রেস্টুরেন্ট ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম—তিন পক্ষের জন্যই সুস্পষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কোনো অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমাধান না করে সরাসরি রেস্টুরেন্টে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে এতে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো ফুড ব্যবসা খাতের নিরাপত্তা ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।








