চান্দাইয়ে ছালিক হত্যা মামলার আসামীরা অধরা বাদীর পরিবারের সদস্যদের উপর ‘রহস্য জনক’ডাকাতির মামলা দায়ের !
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩০:০৩,অপরাহ্ন ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৩৮২ বার পঠিত
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি::দক্ষিণ সুরমা থানার চান্দাই তালুকদার পাড়ায় দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে দিন দুপুরে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে ছালিক মিয়াকে। মামলার প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। হত্যাকান্ডের পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। তাদের পরিবারের লোকজনও তখন বাড়ীতে তালা মেরে পালিয়ে যায়।
কিন্তু হঠাৎ ‘রহস্য জনক’ ভাবে আসামী পক্ষের ছায়া বেগম নামে এক মহিলা বাদী হয়ে হত্যা মামলার বাদী নিহত ছালিক মিয়ার ছোট ভাই মোঃ জুবেদ আহমদসহ তাদের পরিবারের লোকজনকে আসামী করে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম ও দ্রুত বিচার আদালতে একটি সি.আর মামলা নং-২৯৩/২০১৯ খ্রিঃ দায়ের করেছেন। যা বর্তমানে পিবিআই’র কর্মকর্তা এস,আই কামরুজ্জামানের তদন্তাধীন রয়েছে।
জানা যায়,দক্ষিণ সুরমা চান্দাই তালুকদারপাড়ায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশ ও স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে কথা কাটাকাটির জের ধরে আপন চাচাতো ভাই ছালিক মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে রবিন গংরা। এই ঘটনায় নিহত ছালিক মিয়ার ছোট ভাই মোঃ জুবেদ আহমদ বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা নং- ১৭, তাং- ২২/০৭/১৯ খ্রিঃ দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে ঘটনার সময় দক্ষিণ সুরমা থানার এস,আই সারোয়ারসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন । তা এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। হত্যা করে আসামীরা পুলিশের উপস্থিতিতে নির্বিঘেœ পালিয়ে যায়।এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হত্যা মামলাটি সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা রিপন এর তদন্তাধীন রয়েছে।
এমতাবস্থায় বিবাদীরা ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে ‘রহস্য জনক ডাকাতি’ মামলা দিয়ে বাদীপক্ষকে হয়রানি করছে এবং ধাপট দেখিয়ে বাড়ীতে অবস্থান করছে।
সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন ঘটনায় থানা পুলিশ আসামীদের না পেলে তাদের পরিবারের লোকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদসহ জেল হাজতে প্রেরণ করছে। কিন্তু সালিক মিয়া হত্যাকান্ডের আসামী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাড়ীতে অবস্থান,বাদীকে হয়রানী,‘রহস্য জনক ডাকাতি’ মামলা দায়েরের ঘটনা জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিবাদী পক্ষের পরিবারের লোকজন প্রকাশ্যে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকলেও অদৃশ্য কারণে তাদের অনেকের নাম এজাহার থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। সালিক মিয়া নিহত হওয়ার পর আহত তার ভাই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলার এজাহারটিও থানা পুলিশের নির্দেশনায় থানার ডিড রাইটার লিখেছে। পুলিশের ফোন পেয়ে বাদী গিয়ে শুধু স্বাক্ষর করেছেন।
তাই মামলার মূল ঘটনা ধামাচাপা পড়েছে এবং অনেক আসামীরা বাদ পড়েছে। উধর্¦তন কর্তৃপক্ষ সঠিক তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে আসামীদের পরিবারের লোকজনকে গ্রেফতার করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পালিয়ে থাকা আসামীদেরকে গ্রেফতার ও মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।
তবে চাঞ্চল্যকর সালিক মিয়া হত্যা মামলা ও আসামী পক্ষের জনৈক মহিলার ‘রহস্য জনক ডাকাতি’ মামলা দায়েরের বিষয়টি দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপন করা হলে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে পিবিআই তদন্ত করছে বলে জানানো হয়।









