মৌলভীবাজারে বেহাল সড়কে কমছে পর্যটক সাধারণ মানুষের ও দুর্ভোগের অন্ত নেই
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৩১:০৩,অপরাহ্ন ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৪৭৮ বার পঠিত
এম আহমদ আলী মৌলভী বাজার থেকে ফিরে :: ঈদ,পূজাসহ বিভিন্ন ছুটিতে প্রকৃতির লীলাভূমি পর্যটন জেলা চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে সমাগম ঘটে লাখো পর্যটকদের। কিন্তু এবছর যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশায় পর্যটক কমেছে । এর ফলে কয়েক লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
জেলায় পর্যটকদের জন্য রয়েছে নয়নাভিরাম শতাধিক চা বাগান, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, দেশের বৃহত্তম জলরাশি মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, দূর্গম পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে হামহাম জলপ্রপাত, এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দোসাই রিসোর্ট এন্ড স্পা সেন্টার, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, মনু ব্যারেজ এলাকায় রাঙাউটি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধবপুর লেইক, শ্রীমঙ্গলের স্বাধীনতার বধ্যভূমি,
বাইক্কা বিল, টি হেভেন রিসোর্ট, আগরের কারখানা, রাবার বাগান, জুড়ির কমলা বাগান, তুর্কি নকশায় নির্মিত শ্রীমঙ্গলের দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ, মণিপুরি তাঁতশিল্প, খাসিয়াদের চাষকৃত পানের বরজ, মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক সহ আরো অনেক সুন্দর আকর্ষণীয় জায়গা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটক হারানোর মূল কারণ বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা ও ঘন ঘন ট্রেন দুর্ঘটনা। তার সাথে রয়েছে দেশব্যাপী ডেঙ্গু জ্বরের প্রভাবসহ নিরাপত্তার বিষয়টি । এসব কারণে পর্যটক কমছে। আবার ট্রেনের টিকেট কম থাকায় পর্যটকদের বিড়ম্ভনার শিকার হতে হয়। জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রায় ১৬শ কিলোমিটার পাকা রাস্তার মধ্যে এবারের বন্যায় ৩৩ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৫ টি ব্রীজ কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা টাকার অর্থে ক্ষতির পরিমাণ ৮ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশী। জেলায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সদর, রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলা।
এদিকে, মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, তাদের আওতাধীন ৫ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি হিসেবে ২০ কিলোমিটারের চেয়ে অনেক বেশি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের মৌলভীবাজার-শমসেরনগর ও মৌলভী বাজার কমলগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক দীর্ঘ ৩ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে কেউই রাস্তাটি মেরামত করেনি।
রাস্তাটি যোগাযোগের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া এই সড়কের কমলগঞ্জ সড়কের মইদাইল এলাকায় বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কের গর্ত এবং নব নির্মিত একটি কালভার্টের এপোচ সংস্কার না করায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এই রোড দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা এখন কালেঙ্গা বাগানের ভেতরের রোডসহ অন্য রোড ব্যবহার করছেন। চাতলাপুর চেকপোষ্ট দিয়ে যাতায়াতকারীদেরকেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এছাড়াও জেলার মৌলভী বাজার-শমশের নগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ,শমসেরনগর,কুলাউড়া,কুলাউড়া-জুড়ী,জুড়ী-বড়লেখা ও মৌলভীবাজার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল অবস্থা। এই সড়কগুলোই হচ্ছে জেলার প্রধান সড়ক। কিন্তু এই সড়কগুলো যোগাযোগের অনেকটা অনুপযোগী। স্থানীয়রা দীর্ঘ দিন যাবত স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। তবে কাজ শুরুর বিষয়ে তারা আশ্বস্থ করছেন।
কয়েকজন রেস্ট হাউজ মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, অনেক জায়গায় সড়কের সংস্কার কাজ চলায় কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। যার জন্য এসব স্থানে পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তারপরেও আমরা আশাবাদী এবছর পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। আর ভ্রমণ পিপাসুদের ভ্রমণকে আরামদায়ক করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
শ্রীমঙ্গল আবাসন সেবা সংস্থার আহবায়ক ও টি হেভেন রিসোর্টের স্বত্বাধীকারী আবু সিদ্দিক মো. মুসা জানান, ২০১৫ ও ১৬ সালে সরকারি ছুটি থাকায় পর্যটক বেশী এসেছিল। ১৩, ১৪, ও ১৮ সালে কম এসেছিল পর্যটক। এবছর ডেঙ্গুর জন্য পর্যটক কম আসতে পারে।
শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট জোনের পুলিশ পরিদর্শক মঈন উদ্দিন জানান, ঈদ পূজাসহ বিভিন্ন সরকারী ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিবিঘœ রাখতে থাকছে ট্যুরিস্ট পুলিশ সচেষ্ট। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য পর্যটন স্থানগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ জানান, আমরা এরকম উৎসবের সময়ে কয়েক স্থরের নিরাপত্তা নিয়ে থাকি। উৎসব পূর্ববর্তী,চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ মোতায়েন করা হয় পর্যটন স্থানগুলোতে এবং পর্যটক মুখর এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।









