দক্ষিণ সুরমায় দুই ট্রাক চালকের খুনের রহস্য যেভাবে উন্মোচিত হলো

টাইম সিলেট
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:২৪:৫৭,অপরাহ্ন ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | সংবাদটি ৪৬১ বার পঠিতদক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ময়লার ভাগাড় এর পাশে ঢাকা মেট্রো ট-১৮-৪০৩০ রেজিস্ট্রেশন নম্বরধারী একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়েছে বলে সংবাদ প্রাপ্ত হয় মোগলাবাজার থানা পুলিশ । শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) এ সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে মোগলাবাজার থানা পুলিশের কর্তব্যরত দল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোগলাবাজার থানা, অফিসার ইনচার্জ ,মোগলাবাজার থানা ,সহকারী পুলিশ কমিশনার (মোগলাবাজার ),অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ -অপরাধ) ,উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে ট্রাকটি চালিত অবস্থায় এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে দুর্ঘটনার নাটকটি খুব সহজে সাজানো যায়। কিন্তু ট্রাকটি ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ায় এবং ট্রাকের চাকা না থাকায় পুলিশের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। ট্রাকের ভিতর মৃতদেহ দুটি এমনভাবে পড়েছিল যাতে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় বলে মনে হয়নি। মৃতদেহ দুটি সনাক্ত করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহন করে এবং মোগলাবাজার থানা পুলিশ মৃতদেহ দুটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার সময় মৃতদেহ দুটির গলায় চিহ্ন থাকায় প্রাথমিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ট্রাকের ভিতর তল্লাশি করার সময় মালামালের ইনভয়েস মালামাল গ্রহণকারীর কিছু মোবাইল নাম্বার এর সূত্র ধরে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সব মোবাইলের সূত্র ধরে ট্রাক মালিকের নাম্বার পাওয়া যায়। ট্রাক মালিকের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ট্রাকটি গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর হতে লুমিনাস এন্টারপ্রাইজ এর মাধ্যমে অটোরিক্সার পার্টস নিয়ে সন্ধ্যা অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার দিকে ড্রাইভার জাহাঙ্গীর রাজু সহ সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকায় ট্রাকের ড্রাইভার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কে ফোন দিলে রহস্যজনকভাবে পুরাতন ড্রাইভার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের তালুকদার ফোন রিসিভ করেন এবং নতুন ড্রাইভার ঘুমিয়ে আছেন বলে জানান। এরপর থেকে জাহাঙ্গীর এর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে ইব্রাহিম আহমেদ তালুকদার ট্রাক মালিক মোঃ আতাউর রহমানকে ফোনে জানায় তার নতুন ড্রাইভার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তাকে এবং তার সহযোগী ফজর মিয়াকে নবীগঞ্জ থানাধীন আউশকান্দিতে নাস্তা করা অবস্থায় ফেলে রেখে চলে আসে। ড্রাইভার ইব্রাহিম আহমেদ তালুকদারের মোবাইল নাম্বারের অবস্থান হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় পাওয়া যাওয়ায় তাকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়। সাথে সাথে হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে বিকেল ০৩.৩০ মিনিটে মোবাইল নাম্বারে তার অবস্থান এয়ারপোর্ট থানাধীন ধোপাগুল এলাকায় পাওয়া যায়। সহকারী পুলিশ কমিশনার (মোগলাবাজার) জনাব পলাশ রঞ্জন দে এর নেতৃত্বে এসআই রাজিব কুমার রায়, এএসআই সেলিম এয়ারপোর্ট থানাধীন কালাগুল ক্যাম্পের ইনচার্জ এর সহায়তায় সন্ধিগ্ধ ড্রাইভার মোঃ ইব্রাহিম মিয়া তালুকদার কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ড্রাইভার মোঃ ইব্রাহিম মিয়া তালুকদার তার সহযোগীর নাম ফজল মিয়া বলে জানায়। ফজল মিয়ার মোবাইল নাম্বার এর অবস্থান শনাক্ত করে সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে গ্রেপ্তার করে মোগলাবাজার থানা পুলিশ। ফজল মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায় ড্রাইভার মোঃ ইব্রাহিম মিয়া তালুকদার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ড্রাইভার জাহাঙ্গীর ও তার সাথে বেড়াতে আসা রাজুকে গাড়ীর ভিতরে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে। তার জবানবন্দি অনুযায়ী মালামাল উদ্ধারের জন্য সহকারি পুলিশ কমিশনার (মোগলাবাজার), অফিসার ইনচার্জ ,মোগলাবাজার থানা, এসআই রাজিব কুমার রায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর সংলগ্ন একটি দোকান হতে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ওই ট্রাকের তিনটি চাকা ও পাঁচটি রিং উদ্ধার করে (যার আনুমানিক মুল্য ৭০,০০০ টাকা) এবং ক্রেতা মোঃ জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাক চালক জাহাঙ্গীর রাজুর ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল হ্যান্ডসেট ফজল মিয়ার শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কোজাবাইন গ্রাম হতে উদ্ধার করা হয়। আসামিদ্বয় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিধায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করার জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্র-এসএমপি এফবি









