টেকনাফে র্যাব ও বিজিবির সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৮

টাইম ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৫:২৭:১৯,অপরাহ্ন ০৩ মার্চ ২০২০ | সংবাদটি ৪৪৪ বার পঠিতর্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সাতজন নিহত হয়েছেন, যারা রোহিঙ্গা ডাকাত দল ‘জকির গ্রুপের’ সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব। রোববার (১ মার্চ) রাতে ও সোমবার ভোরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা দুটি ঘটে।
র্যাব-১৫-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব বলেন, জাদিমোরা (ক্যাম্প-২৭) রোহিঙ্গা শিবিরের পেছনে ‘জকির গ্রুপ’ দলবল নিয়ে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর একটি দল রোববার রাতে অভিযানে যায়। এ সময় ডাকাতরা র্যাবের ওপর গুলি করে। র্যাবও পাল্টা গুলি করে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ চলে। র্যাব সদস্যরা ৭০-৮০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে গোলাগুলি থেমে গেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ৭ জনের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ৩টি বিদেশি পিস্তল ও ৭টি ওয়ান শুটার গান, ১২ রাউন্ড কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনায় সন্ধ্যা ৭টায় র্যাব-১৫ কক্সবাজার সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন ডাকাত দলের সদস্য ফারুক, নূর হোসেন নূরাইয়া, ইমরান, আলী হোসেন।
নিহতরা সবাই নয়াপাড়া, শালবাগান ও জাদিমোরা রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় ঘটনাস্থল হতে ডাকাত সর্দার জকিসহ আরও ৬ জন পালিয়ে গেছেন বলে র্যাব জানায়।
এদিকে টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া জাদিখাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ান (বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান বলেন, নয়াপাড়া জাদিখাল দিয়ে ইয়াবার একটি বড় চালান মিয়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে এমন সংবাদে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহল দল নোয়াপাড়া বিএসপি পোস্টে অবস্থান নেয়।
এ সময় ২-৩ জনকে নৌকা দিয়ে নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখে টহল দল চ্যালেঞ্জ করে। ওই ব্যক্তিরা লাফ দিয়ে খাল পার হওয়ার চেষ্টা করলে টহল দল তাদের ধাওয়া করে। তখন সশস্ত্র ইয়াবা পাচারকারীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এতে বিজিবির তিন সদস্য আহত হন।
বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ৪-৫ মিনিট পর ইয়াবা পাচারকারীরা কেওড়া বাগানের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। গোলাগুলির শব্দ থামার পর টহল দলের সদস্যরা অজ্ঞাত একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
তাকে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেয়ার পর অবস্থানরত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান আরও বলেন, ঘটনাস্থল তল্লাশি চালিয়ে দেড় লাখ ইয়াবা, একটি দেশি বন্দুক ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।









