মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে খোলা চিঠি!
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:০৯:০৩,অপরাহ্ন ০৩ এপ্রিল ২০২০ | সংবাদটি ৫১৬ বার পঠিত
সিলেটে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে খোলা চিঠি!
আবু তালেব মুরাদঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি সারাদেশে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন এটা অনস্বীকার্য।বিশেষ করে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ব্যাপারে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন যা প্রশাসনের সাথে একটি ভিডিও কনফারেন্স এ তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্ব এখন করোনাভাইরাস সমস্যায় জর্জরিত।ঠিক এই মুহুর্তে আমি সিলেট নিয়ে কিছু কথা আপনার সমীপে উপস্থাপন করছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী অধ্যুষিত এই সিলেটে গত ২ মাসে প্রায় ২৬ হাজার প্রবাসী পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন।যেহেতু তাদের কাউকেও করোনা ভাইরাসের টেস্ট করা হয়নি,তাই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন থেকে যায় যে এই ২৬ হাজারের মধ্যে কারো ভেতরে এর প্রাদুর্ভাব ছিলো কি ছিলোনা।তদুপরি সিলেটের চতুর্দিকে ভারতের সীমানা।কিছু কিছু সীমানায় আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই বললেই চলে।সেই দিকগুলো বিবেচনা করে এই ভাইরাসের জন্য সিলেট একটি ঝুকিপূর্ণ অঞ্চল। তাই সামনে ভয়ংকর দিনের কথা চিন্তা করে আপনার সমীপে কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করলাম।যেমনঃ যদি খোদা নাকরুক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা টেস্টে সিলেটে এক হাজার জনের মধ্যে করোনার প্রাদুর্ভাব পাওয়া যায়,ধরে নেয়া যাক এর মধ্য থেকে ক্রিটিক্যাল রোগী ১০০ জন তাদের প্রয়োজন আইসিইউ এবং ভেন্টিলেশন। বাকি ৯০০ জনকে করতে হবে স্বাভাবিক চিকিৎসা প্রদান।বর্তমানে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আছে মাত্র ২ টি আইসিইউ এবং ও ২ টি ভেন্টিলেটর। এখন এই ১০০ জনকে আইসোলেশনে রাখার জন্য সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ১০ টা আইসিইউ কে বর্ধিত করে মোট ২৫ থেকে ৩০ টা আইসিইউ করার সুযোগ রয়েছে।বাকি ৯০০ জন যদি নিজ বাসায় অবস্থান নেয় তাহলে এ সকল রোগীর কাছ থেকে আরও ১০ জন সংক্রমিত হতে পারে। আপনার সাথে ভিডিও কনফারেন্স এ সিলেটের ডিসি সাহেব জানালেন যে সিলেটের একটি হাসপাতাল করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য পুরা হাসপাতাল ছেড়ে দিতে প্রস্তুত কিন্তু সময়মতো উক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় ও কাজে কতটুকু মিল রাখবে আমার বোধগম্য নয়। তাই এই মুহুর্তে দেরী না করে আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি বাকি ৯০০ জনকে চিকিৎসা এবং অন্যান্য মানুষ থেকে দুরে রাখার জন্য সিলেটের ৪ টি স্থান থেকে যে কোন একটি স্থান নির্ধারণ করে সেনাবাহিনী কর্তৃক সাময়িক ২০০০ হাজার বেডের হাসপাতাল তৈরী করা যেতে পারে, কারন আমাদের দেশের সেনাবাহিনীর দ্বারা তা তৈরী করতে এক সপ্তাহের উপর লাগার কথা না এবং সরকারের পাশাপাশি শুধু বিত্তবান না বাংলাদেশের ধনীদের মধ্যে শীর্ষরাও সিলেটে আছেন তারাও আশারাখি এগিয়ে আসবেন।সে ক্ষেত্রে স্থান গুলো হলো সিলেট জেলা স্টেডিয়াম,সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম,সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ অথবা সিলেট সরকারী এমসি কলেজ মাঠ, এই ৪ টির যেকোন একটি।
সুতরাং আমাদের হাতে কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময় খুবই কম তাই তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়া অতিব জরুরি।তা নাহলে এই অঞ্চলকে মরণব্যাধি করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে অনেক হিমশিম খেতে হবে।
সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ।









