আযিযুল হক আলীপুরীরের ইন্তেকাল, দাফন সমপন্ন
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:১১:৩০,অপরাহ্ন ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | সংবাদটি ৫৯২ বার পঠিতআবুল কাশেম অফিক:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার আলীপুরের বরেণ্য আলেমে দ্বীন জামেয়া গহরপুরের সাবেক মুহাদ্দিস
উস্তাযুল উলামা মাওলানা আযিযুল হক আলীপুরী
আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তিনি মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় দিকে সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মরহুমের জানাজায় বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটায় ওসমানীনগর উপজেলার উসমানপুর ইউনিয়নের আলীপুরে অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র সাহেবজাদা মাওলানা নাজিফুল হক।
জানাজায় গহরপুরের সাবেক শায়খুল হাদিস মাওলানা মুখলিছুর রাহমান কিয়ামপুরী, গহরপুরের মুহতামিম মাওলানা হাফেজ মুসলেহুদ্দীন রাজু, রায়পুর মাদরাসার শায়খুল হাদিস আব্দুস শহীদ চাম্পার কান্দি, বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর, লাওয়াই আলীম মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা ওলিউর রহমান, বালাগঞ্জ ফিরুজাবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালিক, তাজপুর উসমানিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হুসাইন আহমদ সহ ব্যাপক মুসল্লির অংশগ্রহণে জানাজার নামাজ শেষে মরহুমের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আলীপুরী দীর্ঘদিন কয়েক মাস ধরে নানা রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১বছর। তিনি ১ ছেলে, ও ৬ মেয়ে, নাতি-নাত্নী, সহ অসংখ্য ছাত্র, ভক্ত এবং মুরিদান রেখে গেছেন।
মাওলানা আযিযুল হক আলীপুরী ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ওসমানী নগর উপজেলার আলিপুর গ্রামের মরহুম আব্দুল রকিব ও আমিরুন নেছার ঔরসে জন্ম গ্রহন করেন।
১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে গ্রামের মসজিদের মক্তবের মাধ্যমেই তাঁর শিক্ষা জীবনের সূচনা করে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে ৪ চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াবস্থায় পিতা ইন্তেকাল করেন।
পিতার ইন্তেকালের পরও স্কুলে পড়ার জন্য মনােস্থির করেন।
আল্লামা গহরপুরির রহ: এর পরামর্শে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে গলমুকাপন দারুছ ছুন্নাহ মাদরাসায় মক্তব ছুওম (৩য় শ্রেণী) তে ভর্তি করা হয়। এ মাদ্রাসা থেকেই ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে “আযদ দীনি এদারায়ে তা’লীম বাংলাদেশ এর অধীনে মক্তব পাঞ্জম (ইবতেদায়ি সমাপনি) চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথম বিভাগে বাের্ডে সপ্তম স্থান অধিকার করেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে একই মাদরাসা থেকে ছাফেলা চাহারম (মাধ্যমিক) এর ফাইন্যাল পরীক্ষায় অংশ করে আবারো আযাদ দীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ বোর্ডে প্রথম বিভাগে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৪র্থস্থান লাভ করেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি আলিয়া ছুওম (উচ্চ মাধ্যমিক) এর ফাইনাল পীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সব গরীক্ষা দিতে পারেন নি। তবে যে কয়টি বিষয়ের পরীক্ষা দেন সেগুলো দেখে বাের্ডকর্তৃপক্ষ অভিমত দেন যে, এ ছেলে সকল পরীক্ষা দিতে পারলে বাের্ডে এখম স্থান অধিকার করতো। এ জন্য বাের্ডের তৎকালীন সভাপতি মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়া তাঁকে উত্তীর্ণ সনদ দিয়ে পরবর্তী ক্লাশে ভর্তির অনুমতি দেন।। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা উত্তর রানাপিং জামেয়া আরাবিয়া হাইনিয়া মাদরাসায় আলিয়া চাহারম (ত্রয়ােদশ শ্রেণীতে) ভর্তি হন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে এ মাদরাসা থেকে আলিয়া সপ্তম (ডিগ্রী লেভেল) ফাইন্যাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আযাদ দীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ এর অধীনে পরীক্ষায় ভিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম বিভাগে বাের্ডে ১ম স্থান অধিকার করেন।। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এই মাদরাসা থেকে কওমী মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চি শ্রেণী দাওরায়ে হাদীসের ফাইন্যাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, আযাদ দীনি এদারায়ে তালীম বাংলাদেশ এর অধীনে অনুষ্টিত পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম বিভাগে বাের্ডে ১ম স্থান অধিকার করেন।
আযিযুল হক আলীপুরীর দীর্ঘদিন জামেয়া গহরপুরের সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন।









