সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি : সাব-রেজিস্ট্রার পারভীনের মানি মিডিয়া রেহান উদ্দিন
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:০৯:০০,অপরাহ্ন ০৮ জুন ২০২১ | সংবাদটি ৬৫১ বার পঠিত
বিশেষ প্রতিবেদক
সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হোটেল রোজ ভিউ বিক্রি ও দলিলে দুর্নীতি প্রকাশের পর বেরিয়ে আসলো থলের বিড়াল। নীরবে দুর্নীতি করে সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দুর্নীতির শীর্ষে নাম লিখিয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রার পারভীন আক্তার।
অনুসন্ধানে পাওয়া গেল এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়-দুর্নীতি ও জাল-জালিয়াতির মূল হোতা ও মাধ্যম অফিস সহকারী (পিয়ন) রেহান উদ্দিন। দীর্ঘ ৪ বছর পর বিশ্বনাথে বদলী হলেও দু’মাসের ব্যবধানে তাকে আবার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে এনেছেন পারভীন আক্তার।
রেহান উদ্দিন অফিস সহায়ক (পিয়ন) হলেও সদর সাব-রেজিস্ট্রারের পেশকারের (দলিল উপস্থাপকের) দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোজ ভিউর মত সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অসাধু পন্থায় যে সকল দলিল রেজিস্ট্রি হয় এর প্রধান মাধ্যম হচ্ছেন রেহান উদ্দিন। এছাড়া সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রার পারভীন আক্তারের অবৈধ আয়ের মানি মিডিয়া হয়ে কাজ করেন রেহান উদ্দিন।
রেহান উদ্দিন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জাল দলিল সম্পাদন ও ভূমির শ্রেণি বদলের সকল দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে দিতে পারেন। কোথাও কোনো কমিশন হলে সাব-রেজিস্ট্রার পারভীন আক্তার তাকেই সাথে নিয়ে যান। কমিশনে পক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা তার মাধ্যমেই আসে।
সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিস সহায়ক (পিয়ন) রেহান উদ্দিনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতে না পারলে কোনো দলিলই সম্পাদন, কোন কমিশনই হয় না সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে। ফলে সৎ ও নিষ্ঠাবান দলিল লেখকরা তার কাছে একেবারে জিম্মি!
অন্যদিকে সিলেট জেলার ১৩ টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চাঁদা ও ঘুষের টাকাও উত্তোলন এবং কালকশন করেন অফিস সহায়ক (পিয়ন) রেহান উদ্দিন। ব্যাংকে টাকা জমাও হয় তার মাধ্যমে। সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্র অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবৈধ আয়ের মাধ্যম একমাত্র অফিস সহায়ক রেহান উদ্দিন। এই টাকা কালেকশনেও এতে বড় অংকের কমিশনও পেয়ে থাকেন তিনি। সব মিলিয়ে অবৈধ আয়ের মাধ্যম হয়ে স্বল্প বেতনের পিয়ন রেহান উদ্দিন এখন কোটিপতি!
রায়হানের কাজ রেকর্ড রুমে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসেই রাখা হয়েছে। তার তদবীরেই তার শ্যালক আজিজ ২০১৩ সাল থেকে সিলেট জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার পদে বহাল রয়েছেন।
সূত্র আরো জানায়, রেহান উদ্দিনের শশুর ও আজিজের পিতা আব্দুল মান্নান পেনশনে গিয়েও সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্র অফিসে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে কাজের সুযোগ পেয়ে আসছেন।
সরেজমিনে, মঙ্গলবার দুপুরেও সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পারভীন আক্তারের কক্ষে বসে কাজ করতে দেখা যায় রেহান উদ্দিনকে।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন)- রেহান উদ্দিন এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অনিয়মের সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি দীর্ঘ ৪ বছর পর বিশ্বনাথে বদলী হওয়ার কথাও স্বীকার করেন। সদর সাব-রেজিস্ট্রারের পেশকারের (দলিল উপস্থাপকের) দায়িত্ব ও কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, সিলেট সাব-রেজিস্ট্রার পারভিন আক্তারের নির্দেশে এসব করেন।
এ বিষয়ে সিলেট সদর সাব-রেজিস্ট্রার পারভীন আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে রেহান তাঁর অফিস সহকারী এ কথা স্বীকার করে বলেন-তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বা কেউ অভিযোগ করেন নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র : sylhetlive24.com









