সিলেটে বিয়ের প্রলোভনে এক সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা

টাইম সিলেটে ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৪৯:৪৭,অপরাহ্ন ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ | সংবাদটি ৫৩৭ বার পঠিতস্বামী ও এক কন্যা সন্তান নিয়ে দাম্পত্য জীবন সুখেই চলছিলো তার। এরই মাঝে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে সৈয়দ হাফিজুর রহমান সোহাগ নামের এক যুবকের সাথে। প্রথমে প্রেম, পরে শারীরিক সম্পর্ক। সে সম্পর্কের মোহে সংসারও ফিকে মনে হয় তার কাছে। পরকীয়া প্রেমিকের প্ররোচনায় স্বামীকে তালাক দেন তিনি। মেয়েকে নিয়ে আলাদা বাসায় বাস করতে থাকেন। তবে মোহ ভাঙতে সময় লাগে না ওই নারীর। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সোহাগ তাকে প্রতিনিয়ত ব্ল্যাকমেইল করে চলেছেন। নিরুপায় হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নারী। রোববার সিলেট নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রেমিক সৈয়দ হাফিজুর রহমান সোহাগের বিরুদ্ধে মামলা (নম্বর-৬৫) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী (৩০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে সিলেট নগরীর উত্তর বাগবাড়ি এলাকার প্রমুক্ত একতা ৪০১/২ ভাড়া বাসায় বসবাসরত সৈয়দ হাফিজুর রহমান সোহাগ পূর্ব পরিচয়ে সূত্রে ওই নারীর সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে সোহাগের প্ররোচনায় ২০১৫ সালে স্বামীকে তালাক দেন ওই নারী। একমাত্র কন্যা সন্তানকে (৮) নিয়ে সিলেট নগরীতে আলাদা বাস করতে থাকেন। তখন থেকে সোহাগ ওই নারীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন, এমনকি ভারতেও ঘুরতে যান তারা। বিয়ের কথা বলে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও বিয়ের কথা বললেই কৌশলে এড়িয়ে যেতেন সোহাগ। এভাবে ৫ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন সোহাগ। ধর্ষণের ফলে ৩ বছর আগে ২ বার অন্তঃসত্ত্বা হন ওই নারী। সোহাগের কথায় দুইবারই গর্ভপাত করান তিনি। ৫ মে রাত ১২টায় ওই নারীর বাসায় এসে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন সোহাগ। প্রতিশ্রুতি দেন কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে করবেন বলে। এরপর ২৫ জুন শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে আবার ওই নারীকে ধর্ষণ করেন সোহাগ। সর্বশেষ শনিবার রাতে ওই নারীর বাসায় গিয়ে কোকের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এ সময় সোহাগ পুরো দৃশ্য তার মোবাইলে ধারণ করেন। রোববার সকালে সোহাগকে ফোন করে আগের রাতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন ওই নারী। তখন সোহাগ হুমকি দেন, বিয়ের কথা বললে এবং ধর্ষণের ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেবেন। আইনের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পান না ওই নারী। রোববার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারী নারীকে সোমবার সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেখানকার ছাড়পত্র অনুযায়ী ওই নারী ‘সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’র শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সৈয়দ হাফিজুর রহমান সোহাগকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।









