সিলেটে শাহপরান (রহ.) মাজার সড়ক হবে ফোর লেনের
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৫২:৪৮,অপরাহ্ন ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | সংবাদটি ১৯৬ বার পঠিতদেশের মডেল সড়ক হচ্ছে শাহজালাল (রহ.)এর মাজার সড়ক। উপরে কোনো তার নেই। কোনো জঞ্জালও নেই। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের জমানায় এই সড়কের সব জঞ্জাল ভূগর্ভে নিয়ে যান। শুধু এই সড়কই নয়, কোর্ট পয়েন্ট থেকে দরগাহ পর্যন্ত সড়কের জঞ্জালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে মাটির নিচে। দেশ-বিদেশ থেকে অনেক পর্যটকই সিলেটে বেড়াতে আসেন। এই মডেল সড়ক পর্যটকদের মনকাড়ে। প্রতিদিন সিলেটে আসা হাজার হাজার পর্যটক শাহজালাল (রহ.) মাজারে এলেই তারা হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করতে যান। এতদিন শাহপরান (রহ.)এর মাজার এলাকা ছিল সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত। সিলেট সিটি করপোরেশনের সীমানা বর্ধিত করার ফলে এখন শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা হচ্ছে নগরের অধিভুক্ত এলাকা।
ফলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সড়কও দৃষ্টিনন্দন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই মাজার সড়কটি ছিল একটি গলি সড়ক। এই সড়কের উভয়পাশে শ’ শ’ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। আর এসব স্থাপনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল। এতে করে ওরস কিংবা বিশেষ দিবসে শাহপরান (রহ.) মাজার সড়কে যাতায়াত করা পর্যটক ও মুসল্লিদের জন্য কষ্টকর ছিল। যানজট লেগে থাকতো সব সময়। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে মাজারের ফটকে একটি দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের জমানায় এসে এই কাজ শেষ হয়। এরপর সেটি উদ্বোধন করা হয়েছে। মাজার ফটকের যানজট দূর করতে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে সিলেট-তামাবিল সড়ক আইল্যান্ড দিয়ে বিভক্ত করা হয়েছে। মূল বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এতে করে মূল ফটক এলাকার পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। যানজটও কমেছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকার মূল সড়কের পাশের বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। এখন মাজার সড়কের কাজ করা হবে। এজন্য উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি জানান, রাস্তার দু’পাশের ড্রেন এবং ওয়াকওয়ে করা হবে। এতে করে পর্যটকরা মূল সড়ক থেকে হেঁটে হেঁটে মাজার পর্যন্ত যেতে পারবেন। এদিকে, মাজার সড়কের অবৈধ স্থাপনা নিজ থেকে সরিয়ে নিতে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একাধিকবার স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ দখলদের নোটিশ দেয়া হয়। মাইকিং করে তাদের তাগাদাও দেয়া হয়। এরপরও টনক নড়েনি দখলে থাকা ব্যক্তিদের। এ কারণে গত ৭ই ফেব্রুয়ারি সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে শতাধিক স্থাপনা
উচ্ছেদ করা হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার দু’পাশে বুলডোজার দিয়ে এই স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, সিলেটের এ সড়ক ধরে প্রতিদিন অগণিত মানুষ হযরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত, জাফলংসহ প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রসমূহে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কের দুপাশের জমিতে অবৈধভাবে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করেছেন দখলদাররা। আমরা আগেও এসব স্থাপনা তুলে নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়েছি। লাল চিহ্ন দিয়েও সতর্ক করেছে। এ ছাড়া এসব এলাকার বিভিন্ন ছড়াগুলো দখল করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে প্রায়ই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তার প্রেক্ষিতেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এদিকে, হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করতে নতুন করে প্রকল্প করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার এলাকার মতো এই এলাকাও দৃষ্টিনন্দন হবে।
বাড়বে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধাও। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আমরা মাজার সড়ককে ফোরলেনের করতে উদ্যোগ নিয়েছিল। মাঝখানে থাকবে আইল্যান্ড। দু’পাশে থাকবে ওয়াকওয়ে। গেট থেকে মাজার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত এই কাজ হবে। নানা ধরনের লাইটিং করা হবে। পাশাপাশি মাজারের পুকুরকেও সংরক্ষণ করা হবে। চর্তুদিকে সিঁড়ি নির্মাণ করা হবে। এই সিঁড়ি দিয়ে পুকুরে অজু করতে পারবেন মুসল্লিরা। এ ছাড়া, পুকুর পাড়ে পর্যটকদের বসা বা বিশ্রামের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাজার সড়কের মতো মাজার এলাকায়ও কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না। সেখানেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, নগরকে সুন্দর করতে না পারলে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবে না। সুযোগ-সুবিধাও বাড়বে না। সবকিছু মাথায় রেখে আমরা হযরত শাহপরান (রহ.)-এর বাজার এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শুরু করছি বলে জানান মেয়র।









