সিলেটের বাস টার্মিনাল নিয়ে শুরুতেই বিতর্ক
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৩:১১,অপরাহ্ন ০৩ এপ্রিল ২০২৩ | সংবাদটি ২৩৭ বার পঠিতএকটি বাস টার্মিনাল। ভার্চ্যুয়াল যুগে সৌন্দর্য ঘুরে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়। কেউ বলছেন, এটি লন্ডনের। আবার কেউ বলছেন, বিশ্বের উন্নত কোনো দেশের। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে- এটি সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। বলা হচ্ছে- এশিয়ার অনিন্দ্য নান্দনিক এই বাস টার্মিনাল। আসলেও তাই। সব আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন। সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ধারণ করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। সচরাচর এই উপমহাদেশের কোথাও এ ধরনের টার্মিনাল দেখা যায় না।
সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী পরীক্ষামূলক এই টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ১৫ই মার্চ। এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। নগর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এই প্রকল্প উদ্বোধন করতে চান তারা। এ কারণে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু এই পরীক্ষামূলক যাত্রায়ও দেখা দিয়েছে নানা অসঙ্গতি। যা নিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর এতে করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিব্রত। এ কারণে তার পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। বিতর্কের সূচনা করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। যেহেতু তারা সুবিধাভোগী এ কারণে তাদের চোখে ত্রুটি আগেই ধরা পড়ে। তবে. শুরু থেকেই বাস টার্মিনালের নানা বিষয় নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে জেলা পরিবহন শ্রমিক নেতাদের বনিবনা হচ্ছিল না। পরিবহন শ্রমিকরা যেভাবে চেয়েছিলেন, সেভাবে করা হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে। আবার সিটি করপোরেশনও ছিল দোটানায়। এক প্রকল্পে অনেকের অংশগ্রহণ ছিল।
সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মিউনিসিপ্যাল গভর্নমেন্ট সার্ভিস প্রজেক্ট-এমজিএসপি প্রকল্পে সিলেট সিটি করপোরেশন দেশের সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ‘কদমতলী বাস টার্মিনাল’ নির্মাণ করে। এতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। নির্মিত এ প্রকল্পে বিমানন্দরের আদলে বহির্গমন, আগমনের আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্থাপনার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে গোলাকার পাঁচতলা একটি টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে টার্মিনাল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়, কন্ট্রোল রুম, পুলিশ কক্ষ রয়েছে। যাত্রী উঠানামার জন্য পৃথক টার্মিনাল ভবন, সুপরিসর পার্কিং ব্যবস্থা, পরিবহন সেবাদানকারীদের জন্য যাবতীয় সুবিধা সম্বলিত পৃথক ভবন, রেস্টুরেন্ট ও ফুড কোর্ট, পর্যাপ্ত যাত্রী বিশ্রামাগার, নারী, পুরুষ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আলাদা আলাদা শৌচাগার, ব্রেস্ট ফিডিং জোন, স্মোকিং জোন, ছোট দোকান, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য সিক বেড, প্রার্থনা কক্ষসহ সব ধরনের আধুনিক সেবা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এখানে। পরীক্ষামূলক চালুর পর গত সপ্তাহে হঠাৎ করে নির্মাণ ত্রুটি নিয়ে হুলস্থূল দেখা দেয় বাস টার্মিনালে। পরিবহন শ্রমিক নেতারা গিয়ে নির্মাণ ত্রুটির বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বির্তক দেখা দেয়। পরে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সরজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি পরিদর্শনের পর বাস টার্মিনালের পশ্চিম দেয়াল অ্যাঙ্গেলের মাধ্যমে ধাক্কা দিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ময়নুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন, বাস টার্মিনালে কাজ খুবই নিম্নমানের হয়েছে। এটি চোখে দেখলেই বোঝা যায়। যে কাজ হয়েছে সেটি আগামী দেড় থেকে দুই বছর টিকবে কিনা- সন্দেহ রয়েছে। তার মতে- এখনই দেয়ালে ফাটল। থাই গ্লাসের দরোজা ভেঙে পড়ছে। যাত্রীরা সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় পড়ছে বেশি। সিলেটে বাসের সংখ্যা প্রায় ১২শ’।
অথচ এ টার্মিনালে জায়গা দেয়া হয়েছে ২শ’ বাসের। বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা রাস্তায় গাড়ি রাখছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, একাধিক সংস্থা এই প্রকল্পের কাজ তদারকি করেছেন। প্রকল্পকে নান্দনিকের পাশাপাশি টেকসই করতে যা যা করা প্রয়োজন সবই করা হয়েছে। যেসব ত্রুটি নজরে এসেছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করা হবে। এদিকে- নবনির্মিত কদমতলী বাস টার্মিনালের ত্রুটি তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সিটি করপোরেশন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবে এই কমিটি- সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নগর ভবনের সভা কক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ‘দেশের সবচেয়ে আধুনিক বাস টার্মিনালের একটি অংশে ত্রুটি ধরা পড়ে। তাৎক্ষনিকভাবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিদর্শন করেন। এনিয়ে জনমনে কোনো বিভ্রান্তি যেন না ছড়ায় তার জন্য বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, তদন্ত কমিটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মেয়র বলেন- ‘এখনো সিসিকের কাছে এই প্রকল্পটি নির্মাণ সংস্থা হস্তান্তর করেনি। উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষমান বাস টার্মিনালটিতে সুযোগ সুবিধা সমূহ ঠিক আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য পরিক্ষামূলকভাবে সেবা প্রদান শুরু হয়। এরই মধ্যে স্থাপনাটির একটি অংশে কিছু ত্রুটি দেখা যায়। এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, এলজিইডি সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সিসিক’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সমন্বয়ে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।’









