মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস দালালদের দৌরাত্মে গ্রাহক হয়রানি
অফিসে উপস্থিত থাকেন না কর্মকর্তারা

মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা
প্রকাশিত হয়েছে : ২:১১:৩২,অপরাহ্ন ২৮ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ১১৮৯ বার পঠিত
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে নতুন লাইন সংযোগের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এ জেলার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ আবেদনকারীরা।
এখানে দালালের মারফত ছাড়া কোনো লাইনই সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এ সিন্ডিকেট চক্র সকাল থেকে অফিসের সামনেই গ্রাহকদের সন্ধ্যানে ঘুরাফেরা করে। কোনো অপরিচিত ব্যক্তি আসলেই তার দিকে দৌঁড়ে আসেন দালালরা।
অভিযোগ রয়েছে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসেন না। আবার কেউ কেউ সকাল কিছু সময় অফিসে বসে নিজের ব্যক্তিগত কাজে বাহিরে চলে যান। সামান্য কাজের জন্য গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সদর উপজেলার আলাল খান নামের একজন গ্রাহক বলেন, ‘নতুন লাইন সংযোগ দেয়ার জন্য একাধারে তিনদিন অফিসে এসেও কর্মকর্তা পর্যায়ের কাউকে পাওয়া যায়নি। অনেক ঘোরাঘুরি করার পর স্বাক্ষর ছাড়া আবেদন জমা দিয়ে আসি’।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস জানায়, নতুন লাইন সংযোগের জন্য ১’শ টাকা দিয়ে আবেদন করার পর যাচাইবাছাই করে সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে নতুন মিটারের জন্য ১’শ টাকা দিয়ে আবেদন করার পর ৪’শ টাকা জামানত ও ৫০ টাকা ভর্তি ফি দিতে হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার আনিসুর রহমান নামের এক গ্রাহকের জায়গা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে দেয়ার জন্য দালালরা ১৫ হাজার টাকা দাবি করে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুণা এলাকার ওয়ালিদ আল হামিদী’র নতুন বাড়িতে বিদ্যুতের মিটার লাগানোর জন্য ৩ হাজার টাকা দাবি করে দালাল চক্র। এসময় আবেদন বাবত উনার কাছ থেকে ১৫’শ টাকা নেয়া হয়। সদর উপজেলার বিনোসনা দজবালী এলাকার এক নির্মাণ শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধেও টাকা আত্মসাদের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
৬ মাস আগে বিনোসনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বিনোসনা পাঞ্জেগানা মসজিদের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বড় অংকের টাকা নেন। কিন্তু ৬ মাস অতিক্রম হলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দিতে পারেননি। আজ না কাল বলে সময় ক্ষেপেন করছেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ অন্য মাধ্যমে সংযোগদেন।
এবিষয়ে ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) আরিফ শাহরিয়ার বলেন, লাইন সংযোগে বাড়তি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। তারপরেও কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অফিস স্টাফের অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।









