কুলাউড়া উপজেলা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোকবলের অভাব ॥ রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪০:২৬,অপরাহ্ন ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সংবাদটি ৬৫৫ বার পঠিত
কুলাউড়া অফিস : মৌলভী বাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা সদরের ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিঘিœত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা ।
৩৮জন ডাক্তারের স্থলে ২জন কর্মরত। রাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থাকে ডাক্তার শূন্য। বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র গুলোও ডাক্তার শূন্য । এক্সরে প্ল্যান্ট কক্ষ বন্দী। ৬টি বিভাগ বন্ধ। জটিল রোগী ও স্ত্রী রোগী ও প্রসুতিদের নিয়ে বিপাকে পড়ে অভিভাবকদেরকে গভীর রাতে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয় । অভিজ্ঞ মেডিকেল এ্যাসিসটেন্টদেরকে ও অন্যত্র বদলী করা হয়েছে।
কুলাউড়া উপজেলার ৫ লাখ অধিবাসী ও পার্শ্ববর্তী জুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর চালু না হওয়ায় এই দুটি উপজেলার অর্ধশত চা বাগানের শ্রমিক ও পাহাড়ি উপজাতি জনপদের লোকদের চিকিৎসা সেবার অন্যতম ভরসা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্স। তা ছাড়াও বিয়ানীবাজার-ঢাকা ব্যস্ততম সড়কের পাশে অবস্থিত এই কমপ্লেক্সে প্রায়ই দূর্ঘটনা কবলিত রোগীরা চিকিৎসা নিতে এখানে আসেন।
এই কমপ্লেক্সের আউটডোরে প্রতিদিন ৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য ভিড় জমান। ব্যস্ততম এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ৩৮জন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন এর মধ্যে ১জন মেডিক্যাল অফিসারকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে উপজেলা সদরে নিয়ে আসা হলে তিনিও অন্যত্র চলে গেছেন। এই কমপ্লেক্সের ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন জেলা সদরে প্রেষণে কর্মরত আছেন, অথচ বেতন ভাতা গ্রহণ করছেন এই কমপ্লেক্স থেকে। ফলে গাইনি,চক্ষু,অর্থপেডিক্স, শিশু, রেডিওগ্রাফার,এক্সরে টেকনিশয়ানসহ গুরুত্বপুর্ণ পদ সহ ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৪জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে।
তিন যুগ যাবত নানা অজুহাতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল্যবান এক্সরে প্ল্যান্টটি কক্ষবন্দি হয়ে নষ্ট হতে চলছে।থেরাপি টেকনিশিয়ান থাকার পরও উপযুক্ত যন্ত্রপাতির অভাবে এই বিভাগটি রোগীদের কোন কাজে আসছে না। ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদেরকে প্রাইভেট থেরাপি সেন্টারে যেতে হয়। কমপ্লেক্সে ডাক্তারের অভাবে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছ্বল রোগীদেরকে বাধ্য হয়ে হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে এবং ধারদেনা করে প্রতি শুক্রবারে বহিরাগত প্রায় অর্ধশত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বারে ভীড় জমাতে বাধ্য হন। সেই রোগীদেরকে ডাক্তারের ফি দেয়ার পর ঔষধ কেনার টাকা থাকে না।
বতর্মান সরকার চিকিৎসা সেবা সাধারণ মানুষের দোড় গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য এই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৮টি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ও ৫টি স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র চালু করেছিলেন। এ গুলোর কোনটিতেই বর্তমানে ডাক্তার নেই। কমপ্লেক্সে উন্নত যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ একটি ওটি (অপারেশন থিয়েটার) থাকার পরও ডাক্তার ও এ্যানেসথেটিষ্ট এর অভাবে প্রসূতি মহিলাদেরকে ক্লিনিকে গিয়ে মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে। কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী,কম্পাউন্ডার ও কার্ডিওগ্রাফার দীর্ঘদিন যাবত অন্যত্র প্রেষনে আছেন। অন্যান্য কর্মচারিদের ২৬ পদ শূন্য। প্রকল্পের ল্যাবরেটরিতে এনালাইজার মেশিনের অভাবে অনেক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এখানে করা হয় না।
এসব দুর্ভোগের মধ্যেও গতকাল সোমবার এই প্রকল্পের ১জন সেকমো, ১জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ১জন আয়াকে অন্যত্র বদলী করা হয়েছে। অর্থের অভাবে কমপ্লেক্সের দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ডওভার অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন যাবত গ্যারেজ বন্দী হয়ে নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে আরো ২টি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রয়েছে মাত্র ১জন ড্রাইভার। সুইপারের অভাবে কম্পপ্লেক্সের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিঘিœত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫জন ডেঙ্গু রোগি ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা অভিযোগ করেন, এতবড় হাসপাতালে ডাক্তার ও ঔষধ কোনটাই পাওয়া যায় না। ঔষধের নাম লেখা একটুকরো কাগজই রোগিদের ভরসা।
পরিচ্ছন্ন কর্মীর অভাবে স্বাস্থ্য প্রকল্প টি নিজেই অসুস্থ। এই সকল অসুবিধার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ জাকির হোসেন, প্রকল্পের স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ নূরুল হক উভয়েই জানান, ঔষধ আছে কিন্তু চিকিৎসকের অভাবে সম্পদের সুষ্ট ব্যাবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
মৌলভী বাজার জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাহজাহান জানান, তার অধীনস্ত সবগুলি হাসপাতালে ডাক্তারের অভাব রয়েছে তন্মধ্যে তীব্র সংকট রয়েছে কুলাউড়া ইপজেলায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য সুলতান মোঃ মনসুর আহমদ জানান, ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য থাকা কালে এক্সরে মেশিন আনা ও ৩৫ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হয়েছিল। এরপর আর সামনের দিকে এগোতে পারেনি। বিগত দিন গুলোতে হাসপাতালের দিকে কেউ নজর দেননি। ফলে বর্তমানে কমপ্লেক্সটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ সকল সমস্যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।









