সিলেটে বৃষ্টিও দমাতে পারেনি মুসল্লিদের ঢল
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৪১:৪০,অপরাহ্ন ৩১ মার্চ ২০২১ | সংবাদটি ৩৮১ বার পঠিতওয়েছ খছরু, মানবজমিন, কপি রাত তখন দুইটা। দরগাহে গিজগিজ করছেন মুসল্লিরা। মাজার এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মাজারের ভেতরে শুরু হলো মোনাজাত। মুসল্লিদের ঢল সিঁড়ি পর্যন্ত গিয়ে ঠেকলো। মোনাজাতে অংশ নিলেন হাজারো মুসল্লি। এ সময় শুরু হলো ঝড়-বৃষ্টি। তড়িঘড়ি করে মোনাজাত শেষ করা হলেও ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেলেন না মুসল্লিরা।
মৌসুমের প্রথম ঝড়ে দরগাহে ভিজলেন হাজার হাজার মুসল্লি। পবিত্র শবেবরাতের রাতে সিলেটের ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ এলাকার গভীর রাতের দৃশ্য এটি। শবেবরাত এলেই মুসল্লিদের ঢল নামে সিলেটে। মাজারের শহর সিলেট। এ কারণে মাজারে মাজারে ভিড় বাড়ে মুসল্লিদের। রাতে গাড়ি নিয়ে মুসল্লিরা মাজারে মাজারে ছুটে যান। করেন প্রার্থনা। কবর জিয়ারতে ব্যস্ত থাকেন মুসল্লিরা। ফলে পবিত্র শবেবরাতের রাতে সিলেট নগরীতেই লাখো মানুষের ঢল নামে। গেল বার করোনার কারণে সবকিছু ছিল বন্ধ।
ঘরবন্দি ছিলেন মুসল্লিরা। এমনকি মসজিদ-মাজারও ছিল বন্ধ। এবার করোনার সতর্কতার মধ্য দিয়ে সিলেটে মুসল্লিদের ঢল ছিল। বিকাল হতেই ভিড় বাড়তে থাকে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহে। মধ্যরাতের আগেই মাজার এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। সবার গন্তব্য ওলিকুল শিরোমণি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করা।
এ কারণে গাড়ি নিয়ে সিলেট শহর ও আশেপাশের উপজেলার মানুষ রাত ১০টার পর মাজারে দলে দলে আসতে থাকেন। সোমবার পবিত্র শবেবরাতের রাতে এসেছিলেন মুসল্লিরা। তবে সিলেট শহরের বাসিন্দাদের বেশির ভাগেরই ভিড় ছিল মাজার পার্শ্ববর্তী গোরস্থানে। এই গোরস্থানেই সিলেট নগরীর বেশির ভাগ মানুষের কবরস্থান।
এ কারণে আত্মীয়স্বজনরা এসে ভিড় করেন দরগাহস্থ গোরস্থানে। বাদ মাগরিব মাজারস্থ গোরস্থানে কথা হয় সিলেটের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে। জানালেন- তার পিতা ও বড় ভাইয়ের দাফন করা হয়েছে। মাজার দরগাহস্থ কবরস্থানে। এ কারণে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে এসেছেন মাজার জিয়ারত করতে। শুধু শফিকুর রহমান চৌধুরীই নয়, সিলেটের সব বয়সী মানুষের গন্তব্য ছিল মাজার এলাকায়।
রাত দুইটায়ও মাজার এলাকা ছিল লোকে লোকারণ্য। এবাদত-বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন মুসল্লিরা। দরগাস্থ মসজিদের নিচ তলা ও দু’তলা ছিল কানায় কানায় ভরপুর। কেউ নামাজ পড়ছেন, আবার কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। তেমনি অবস্থা মহিলা এবাদত খানায়ও।
আর মাজারের মূল কম্পাউন্ডের ভেতরেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ভেতরের উত্তর অংশে একটার পর একটা মিলাদ মাহফিল হচ্ছিলো। পশ্চিম অংশে মুসল্লিদের কেউ কেউ নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। এমন অবস্থায় হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি মুসল্লিদের বেকায়দায় ফেলে দেয়। ফলে মাজারের মূল কম্পাউন্ট, মসজিদ কিংবা বাইরের আংশিক এলাকা ছাড়া সবখানেই মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভিজেছেন।
তবে এরই মধ্যে চলেছে এবাদত বন্দেগি। মসজিদের তিন তলা ও চার তলায় অবস্থান করা কয়েকজন মুসল্লি জানিয়েছেন- বজ্র সহ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মাজারের উঠোনে থাকা মুসল্লিরা এসে আশ্রয় নেন তিন তলা ও চার তলায়। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে তিন তলা ও চার তলার বেশির ভাগ এলাকা ভিজে যায়। ফলে এবাদত-বন্দেগিতেও মুসল্লিদের বেগ পেতে হয়। রাত ৩টার দিকে ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা থেমে গেলে মুসল্লিরা ফের মাজার জিয়ারত পর্ব শুরু করেন।
সিলেটে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নাজুক। শনাক্তের সংখ্যা তিন মাসের মধ্যে রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু পবিত্র শবেবরাতের দিনে সিলেটের দরগাহে করোনার কোনো ছিটেফোটা লক্ষ্য করা যায়নি। রাতভর হাজার হাজার মুসল্লি স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করেছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগেরই ছিল মুখে মাস্ক। এ ছাড়া মাজার কিংবা মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। মাজারের মূল কম্পাউন্ডের বাইরে থাকা কর্তৃপক্ষের কয়েকজন জানালেন এত মুসল্লি, এত ঢলের মধ্যে করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। বার বার মাইকে করোনা সতর্কবার্তা প্রচার করা হলেও কেউ কারো কথা মানেনি। এদিকে- সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহের পর সবচেয়ে বেশি ভিড় হযরত শাহ পরান (রহ.) মাজারেও। বিকাল থেকে শাহপরানের মাজারেও ভিড় বাড়তে থাকে মুসল্লিদের। অনেকেই শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে ছুটে যান। মধ্যরাতের পর ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েন শাহপরান (রহ.) মাজারে থাকা মুসল্লিদের। এসময় অনেকেই মসজিদে অবস্থান নিলেও বেশির ভাগ মুসল্লি বৃষ্টিতে ভিজে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল ছিলেন। সিলেটের আরেক প্রাচীন গোরস্থান হচ্ছে হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থান। পবিত্র শবেবরাতের রাতে মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানেও ছিল মুসল্লিদের ঢল। বিশেষ করে আত্মীয়স্বজনদের কবর জিয়ারত করতে দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন এই কবরস্থান জিয়ারত করতে এসেছিলেন।









