এটি কি প্রকৃত ইসলাম?
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৪৩:৩৩,অপরাহ্ন ১৮ এপ্রিল ২০২০ | সংবাদটি ৬৫৭ বার পঠিতসাংবাদিক সালমান ফরিদ
মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে চিনি। তিনি আমার এক চাচার বন্ধু এবং ক্লাসমেট। সেই সুবাদে আমাদের বাড়িতে তার আসা যাওয়া ছিল। ছোটবেলায় তার ওয়াজ আমিও শুনেছি। পছন্দও করতাম। আমাদের গ্রামের পাশের বাজারে তাফসির মাহফিল হতো। সেখানে তাফসির শেষে অনেকদিন রাতে আমরা একসাথে বাড়ি ফিরেছি। মনে পড়ছে আজ!
তিনি অসাধারণ মানুষ ছিলেন। সজ্জনও। আমি তার মৃত্যুতে শোকাহত। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন, এই মোনাজাত করি। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত না হলে তার আরও বেশি দেয়ার ছিল মুসলিম উম্মাহকে— এটি আমিও বিশ্বাস করি!
কিন্তু তিনি উগ্র ছিলেন না। এমনটিও মনে করতেন না যে, মরলে সবাইকে নিয়ে এক সাথে মরবো! না, সত্যি এতটা অমানবিক ছিলেন না তিনি— যতটুকু আমি তাকে জানি বা চিনি, তাতে একথা বলতেই পারি!
সেই তার মৃত্যুর পর আজ জানাজায় এত মানুষ দেখে নিঃসন্দেহে মনে হয়েছে, তার প্রতি মানুষের কত অগাধ ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও ভক্তি ছিল! কিন্তু কেউ কি এই জানাজার আয়োজনে তার মানবিক মনের কথা একবারও চিন্তা করেছেন?
এই করোনা ভাইরাসের মহামারির সময়ে যে কোনো জমায়েত আত্মহত্যার শামিল! ইসলামে সেই আত্মহত্যা মহাপাপ! তবুও আমরা আত্মহত্যার মহাজমায়েতে দলবলে শরিক হয়েছি! আমরা যখন ফরজ আদায় করছি ঘরে, একা একা! তখন ফরজে কেফায়া আদায় করছি মহাসমারোহে! সব নিষেধাজ্ঞা, সব বারণ, সব ভয় উপেক্ষা করে!
যখন আমরা জানছি, এমন সমাবেশ থেকেই সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণ হয়, এবং বি-বাড়িয়া সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের একটি, এবং এরকম সমাবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে, তখন সেরকম সমাবেশ করে করোনাকে সাদরে নিজের মাঝে গ্রহণ করেছি! যা ছড়িয়ে দেব পরিবারে, সমাজে! এ জন্য আইন অমান্য করেছি! যেন এভাবে মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারীকে বোঝাতে চাইছি, আপনি ইন্তেকাল করেছেন। এই শোকে আমরা আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চাই না। আমরা আপনার কাছে আসছি। এজন্য করোনার খাতায় নাম লিখালাম!
জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছে এমন আর্জি জানালে মাওলানা সাহেব কি তাতে খুশি হতেন? সম্মতি দিতেন? আমার মনে হয়, ‘না’! দিতেন না। তাহলে কেন তার মৃত্যুর পরদিনই দলে দলে করোনার খাতায় নাম লেখালেন? কেন একটি এলাকাকে ঝুঁকির মাঝে জোর করে ঠেলে দিলেন? এভাবে বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলার অধিকার কে তাদেরকে দিয়েছে?
ইসলাম হলো বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়। কোরআনে বারবার আল্লাহ পাক বলেছেন বিজ্ঞানময়তার কথা! কিন্তু আমাদের আবেগী কতিপয় হুজুররা নিজের দরকারে ইসলামে বিজ্ঞানকে গৌন করে ফেলেন। এবং একমাত্র আধ্যাত্মিকতাকে তারা সামনে নিয়ে আসেন। যার প্রমাণ আজকের বি-বাড়িয়ার এই লোক সমাগম!
যখন ইসলাম ও বিজ্ঞান বলছে, ঘরে থাকো, নিরাপদ থাকতে সতর্ক থাকো। ঘরের বাইরে বের হয়ো না! তখন তারা আধ্যাত্মিকতাকে সামনে এনে ‘আল্লাহর হাওলা’ বলে বাইরে বেরিয়ে এসে গায়ে গা লাগিয়ে জনসমাগম করেছেন! ‘আমাদের কিছুই হবে না’ বলে ভক্তি-শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন!









