সিলেটে শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ২

টাইম সিলেট
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:২৭:২৫,অপরাহ্ন ১১ জুলাই ২০২০ | সংবাদটি ৪১৪ বার পঠিতপূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিলেটে ইকবাল আহমদ রিপন নামের এক শ্রমিক নেতা নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানার করইকান্দি গ্রামের মৃত কবির মিয়ার ছেলে নোমান আহমদ ও মৃত বশির মিয়ার ছেলে সাদ্দাম নামের ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ইকবাল আহমদ রিপন, সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন দক্ষিণ সুরমা থানাধীন খোজারখলা পশ্চিম মহল্লা এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র। তাঁর এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
জানা যায়, ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মোঃ ইউনুস মিয়ার দক্ষিণ সুরমা বাবনা পয়েন্টস্থ রেলওয়ের সাধুরবাজার সংলগ্ন যমুনা ওয়েল ডিপোর পাশে তেলের দোকান। গত ২৭ রমজানে ইউনুস মিয়ার দোকানে চাঁদা দাবী করে বরইকান্দি এলাকার এজাজুল, রিমু, মুন্নার নেতেৃত্বে ৭/৮জন সন্ত্রাসী। চাঁদা না দেয়ায় জোর পূর্বক দোকানের ক্যাশ থেকে তেল বিক্রয়ের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা তারা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য মোঃ ইউনুস মিয়া দক্ষিণ সুরমা থানায় বাদি হয়ে মামলা করেন। আর এই ঘটনার জোরালো প্রতিবাদ করেন নিহত সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ রিপন। এবং জড়িতদের গ্রেফতারে দক্ষিণ সুরমা থানাকে চাপ দেন। এই প্রতিবাদ তার কাল হয়ে দাড়ায়। এরই জেরে শুক্রাবার রাত ১০টার দিকে তার সহযোগী বাবলা মিয়াকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে বাবনা পয়েন্টস্থ আসা মাত্র সন্ত্রাসীরা তাদের উপর হামলা করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে রিপন মাঠিতে লুটে পড়েন। সাথে থাকা বাবলা এগিয়ে এলে তিনিও গুরুতর আহত হন। তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার রিপনকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্রমিক নেতা রিপন নিহত হওয়ার সংবাদে শ্রমিকরা প্রথমে বাবনা পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
এবিষয়ে সিলেট বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ মনির হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির আলী অভিযোগ করে বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনার পর দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ফজল ও কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই ফয়েজকে বার বার বলার পরও সন্ত্রাসীদেও গ্রেফতার করেনি। যদি সন্ত্রাসীদেরকে পুলিশ গ্রেফতার করতো তাহলে আজ এই খুনের ঘটনা হতো না। পুলিশের সহযোগীতায় সেই ছিনতাইকারীরা নানা অপকর্ম করছে প্রতিদিন।
আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদেও গ্রেফতার, ইন্ধনদাতা রেলওয়ের প্রকেীশলী আলী আকবরকে গ্রেফতার ও তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবী জানান। তারা বলেন, রেলওয়ের প্রকেীশলী আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে। তাই আলী আকবরকে গ্রেফতারের জোর দাবী জানান শ্রমিক নেতারা।
এবিষয়ে এসএমপি দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ফজল বলেন, ইকবাল আহমদ রিপনের হত্যার ঘটনায় ২জনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।









