ভূরিভোজ’ আলোচনায় সিলেটের ৫ কাউন্সিলর
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৩৭:০০,অপরাহ্ন ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ | সংবাদটি ৪০৬ বার পঠিতওয়েছ খছরু, দৈনিক মানবজমিন কপি
সিলেটে পাখির মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করে আলোচিত হয়েছেন সিটি করপোরেশনের ৫ কাউন্সিলর। তাদের ভূরিভোজের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে জৈন্তাপুরের উপজেলা প্রশাসন পাখির মাংস বিক্রির দায়ে হরিপুরের ওই রেস্তরাঁর মালিকপক্ষকে জরিমানা করেছেন। প্রশাসন প্রমাণ পেয়েছে- নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও হরিপুরের কয়েকটি রেস্তরাঁয় পাখির মাংস বিক্রি করা হয়। বিষয়টি আগে থেকে জানতেন সিলেটের মানুষ। বারো মাসই পাখির মাংস পাওয়া যায় জৈন্তাপুরের হরিপুরের কয়েকটি রেস্তরাঁয়। এ কারণে নগরী থেকে অনেকেই শখ করে পাখির মাংস খেতে চলে যান হরিপুরে। কেউ কেউ আগে থেকে পরিচিত পাখির মাংসের অর্ডার দিয়ে যান।
গত শুক্রবার রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ কাউন্সিলর তাদের প্রবাসী এক বন্ধুকে হরিপুরে পাখির মাংস দিয়ে ভুড়িভোজ করাতে যান। এরা হলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বক্স, ১১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান, ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল মুহিত জাবেদ ও ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ। তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রায়হান আহমদ ছিলেন। অনেকটা শখ করেই তারা পাখির মাংস দিয়ে ভুড়িভোজ করতে যান। এরপর ভুড়িভোজের সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। কারণ- বাংলাদেশের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী, কোনো পাখি বা পরিযায়ী পাখি বা মাংস ক্রয়-বিক্রয় অপরাধ এবং এতে ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ আইনের তফসিল অনুযায়ী দেশের স্থানীয় বন্য পাখি ধলাবুক, ডাহুক, বক ও বালিহাঁস নিষিদ্ধ পাখির অন্তর্ভুক্ত। শুক্রবার রাতে সিটি করপোরেশনের ওই ৫ কাউন্সিলর ও তাদের প্রবাসী বন্ধু ধলাবক, ডাহুক, বক ও বালিহাঁসের মাংস দিয়ে ভুরিভোজ করেন। সংশ্লিষ্টরাও দাবি করেন- এটি অন্যায়। কাউন্সিলররা এটি করতে পারেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ দৃশ্য দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হতে পারে। এদিকে- পাখির মাংস দিয়ে ভুড়িভোজের খবরে আলোচনা শুরু হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত রোববার বিকালে জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা হরিপুরের ওই পাখির মাংসের দোকানে অভিযান চালান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা পারভীন। অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ পারভিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে দু’টি রেস্তরাঁয় অভিযান চালানো হয়। এর আগে ওই দুই রেস্তারাঁকে পাখির মাংস বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়। এদিকে- তারু মিয়া হোটেল নামের ওই রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে পাখি জবাই করে মাংস সংরক্ষণ করে রাখা ও মাংসের তরকারি পাওয়া যায়। পাশাপাশি আরো একটি রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি পাখির মাংস পাওয়া যায়। দু’টি রেস্তরাঁর পরিচালনায় থাকা দুই ব্যবসায়ীকে আটক করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা দিয়ে মালিকরা ছাড়া পান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- গত শুক্রবার রাতে হরিপুর বাজারের নিকটবর্তী তারু মিয়ার রেস্তরাঁয় সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা হরেক প্রজাতির পাখির মাংস দিয়ে ভুড়িভোজ করেন। বেশ কয়েক বছর ধরে তারা গোপনে পাখির মাংস বিক্রি করেন। এক সময় সিলেটের জৈন্তাপুরের বিভিন্ন হাওর শীত মৌসুমে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য ছিল। পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠতো জৈন্তাপুরের বিভিন্ন হাওর। এ দৃশ্য এখন আর নেই। শিকারীদের কারণে পাখিরা এখন আর আসে না। স্থানীয় প্রজাতির বক ও ডাহুক পাখির অভয়াশ্রম ছিল জৈন্তাপুরের বিভিন্ন জলাভূমি। গোটা বছরই এই দুই প্রজাতির পাখি দেখা যেতো। কিন্তু শিকারীদের কারণে কমে আসছে পাখির সংখ্যা। হরিপুরের দোকানিরা আগে স্থানীয় শিকারীদের কাছ থেকে পাখি ক্রয় করলেও এখন সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলের শিকারীরা তাদের কাছে পাখি এনে বিক্রি করে।









