সিলেটে বিয়ে পাগল মাইকেলকে নিয়ে চলছে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৪৪:৪০,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০২১ | সংবাদটি ৪৯৫ বার পঠিতসিলেটে বিয়ে পাগল মাইকেলকে নিয়ে তোলপাড় চলছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাইকেল ৩৫ বছরের সংসার জীবনে ৭ সন্তানের জনক। তবুও নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে চলে এসেছেন সমালোচনায়। প্রথম স্ত্রীর মা আনোয়ারা বেগম বৃহস্পতিবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে মাইকেলের নানা অপকর্মের তথ্য তুলে ধরেছেন। সেই সাথে আনোয়ারা তার মেয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে মাইকেলের বিদেশ যেতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের ঘোপাল গ্রামের মৃত হাজী ছিদ্দেক আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম জানান, বিশ্নাথ থানার সিংগেরকাছ গ্রামের মৃত ওয়ারিছ আলীর পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাইকেল মিয়ার সাথে ১৯৮৭ সালে তার মেয়ে মিনারা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাইকেলের কু চরিত্র, লুলুপ দৃষ্টি এবং নানা কুকর্ম তার মেয়ের চোখে ধরা পড়ে। এমনকি তার মেয়েকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মাইকেল যৌতুক দাবী করে।
সেসময় তারা বাধ্য হয়ে মাইকেলকে বেশ কিছু টাকা দেন। এতকিছুর পর ও সংসার এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মিনারা তার সাথে জীবন চালিয়ে আসছিল। গত কয়েক বছর থেকে মাইকেলের চরিত্রের মারাত্বক অবনতি ঘটে। মাইকেল আনোয়ারা বেগমের মেয়ে ও নাতীদের আয়ের টাকায় তার নামে ক্রয়কৃত সম্পদ বিক্রি করে নারীদের পেছনে ব্যায় করে। এছাড়া আনোয়ারার স্বামী জিবীত থাকতে তার মেয়ে ও মাইকেলকে ১৫ শতক জায়গা দান করে যান। বর্তমানে সে এ জায়গা ও বিক্রি করার পায়তারা করছে। এমনকি সে যৌতুক এবং পুনরায় বিয়ে করার জন্য তার মেয়েকে চাপ দিতে থাকে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সে দেশে আসে। মাইকেল দেশে আসলেই সে তার সৎ বোন ছায়ারুন নেছা আছকার ছাতকের দক্ষিণ কুর্শি গ্রামের বাড়িতে চলে যেত। আছকার সাথে ও তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। আছকার বাড়িতে থেকেই মাইকেল ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। এ টাকা না দিলে সে আছকার সাথে নতুন সম্পর্কে জড়াবে বলে মিনারাকে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তার হুমকি এবং অনৈতিক সম্পর্কের কারনে মিনারা বাধ্য হয়ে মাইকেল ও আছকার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১৫/৮৯। এ ঘটনায় ছাতক থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
পরে মাইকেল যুক্তরাজ্যে গিয়ে মিনারাকে মেরে ফেলার ফন্দি আটে। এরই অংশ হিসেবে একদিন সে মিনারাকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে তারা মাইকেলকে ধরে নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে পুলিশ মাইকেলকে আলাদা থাকার শর্তে ছেড়ে দেয়। তবুও বারবার সে বাসায় এসে মিনারাকে নির্যাতনের চেষ্ঠা চালায়। এদিকে গত জানুয়ারী মাসে মাইকেল দেশে আসে। দেশে এসেই সে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। সে তার নিজের ফেইসবুকে বিবাহের ছবি পোষ্ট করেছে। এদিকে মিনারা যুক্তরাজ্যে থাকলে সে হুমকি দিয়ে বলেছে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে শেষ করে দেবে। দেশে থাকা মিনারার মা ও ভাইদেরও হুমকি দিয়ে বলেছে বিষয়টি প্রকাশ করলে সে মামলায় ঢুকিয়ে দেবে এবং সন্ত্রাসী দিয়ে নির্যাতন চালাবে।
মাইকেল যদি এ মূহুর্তে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় তাহলে সে যুক্তরাজ্যে গিয়ে বড় রকম অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করায় যুক্তরাজ্য হাই কমিশনের মাধ্যমে মিনারা আইণি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাই মাইকেল যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সংবাদ সম্মেলনে সে ব্যাপারে সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আনোয়ারা।










