সিলেটে নিখোঁজ ৪ তরুণকে নিয়ে নানা রহস্য
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:৩৮:৪৫,অপরাহ্ন ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ | সংবাদটি ৩৫৮ বার পঠিতওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে সিলেটের দয়ামীর থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪ তরুণের ঘটনাটি এখনো রহস্য ঘেরা। তারা কোথায় আছে, কেমন আছে জানেন না কেউ। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন অন্ধকারে। তবে, তাদের নিয়ে এলাকায় জল্পনা কমছে না। আলোচনার ডালপালাও মেলছে। নিখোঁজের আগে ওই ৪ তরুণসহ কয়েকজন গ্রামের মসজিদে ধর্মীয় আলোচনায় বসতো। আর তাবলীগ জামায়াতে যাওয়ার কথা বলে তারা উধাও হয়ে যায়। এদিকে, এক মাসেও ৪ তরুণ ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী রয়েছেন উৎকণ্ঠায়।
ওই ৪ তরুণ হচ্ছে- ওসমানীনগরের দয়ামীর এলাকার বাসিন্দা ও লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্র শেখ আহমদ মামুন ও একই এলাকার হাসান সায়িদ, সাইফুল ইসলাম ও সাদিকুর রহমান। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ১৫ই নভেম্বর তারা নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এর মধ্যে কেউ কেউ বলেছিল, তারা তাবলীগ জামাতে যাচ্ছে। কিন্তু তাবলীক জামাতে যাওয়ার কোনো সত্যতা মেলেনি। কোথায় আছে তারা সেটিও শনাক্ত হয়নি। এ কারণে নিখোঁজ মামুনের বাবা শেখ শামসুল হক স্বপন গত ২৭শে নভেম্বর সিলেটের ওসমানীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। থানায় জিডি দায়ের করার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এ সম্পর্কে অনুসন্ধানে নেমেছে। তবে, এখনো তাদের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে ৩ জন মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৫ই নভেম্বর সকালে বাজারে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয় মামুন। এরপর কানে আসে গ্রামের আরও ৩ জনের সঙ্গে সে তাবলীগ জামাতে গেছে। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও সে ফিরে আসেনি। তার সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। শেখ শামসুল হক স্বপন জানিয়েছেন, তার ছেলে মামুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো। নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতো। বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার কথা বলে সে বেরিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। নিখোঁজ হাসান সায়িদ ঢাকার একটি মাদ্রাসা থেকে টাইটেল পাসের পর এলাকায় ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সে বিয়েও করেছে। এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, সায়িদ এলাকার ছেলেদের একত্রিত করে ধর্মীয় শিক্ষা দিতো। মাঝেমধ্যে মসজিদে তাদের নিয়ে বৈঠক করতো। বিষয়টি তাদের নজরে এলেও ভালো কর্ম বিধায় এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। সায়িদ একা ও নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করতো। এদিকে, একসঙ্গে ৪ জন নিখোঁজ হওয়ার পর সায়িদকে ঘিরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন- সায়িদ যেহেতু ঢাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র ছিল, তার সঙ্গে উগ্রবাদের কারও সম্পর্ক থাকতে পারে। এ কারণে সায়িদকে ঘিরে এলাকায় নানা জল্পনা চলছে। সায়িদের বাবা ছোরাব আলী জানিয়েছেন, খবর পেয়েছিলাম বিদেশী তাবলীগ জামাতের সঙ্গে গেছে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই। নিখোঁজ অন্য দুজনের মধ্যে মাদ্রসায় পড়া সাদিকুর রহমান জিম ইন্সট্রাক্টরের কাজ করতো ও সাইফুল ইসলাম তুহিন দারোয়ানের কাজ করতো। তুহিন মোবাইল ব্যবহার করে না। দয়ামীর এলাকার কিশোর ও তরুণরা জানিয়েছে- তারাও প্রায় সময় সায়িদের আহ্বানে ধর্মীয় ক্লাসে যেতেন। সেখানে তাদের ধর্মীয় নানা বিষয়ে ধারণা দেয়া হতো। এদিকে, ওসমানীনগর থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি। ওই ৪ তরুণ কোথায় আছে সেটি আমরা জানার চেষ্টা করছি। বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফখর উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি আমাদের কাছেও রহস্যজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে একটি ছেলেকে চিনতাম। তবে, তার আচরণ কখনো রহস্যময় মনে হয়নি।









