ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টির আশঙ্কা আরিফের
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:১৮:১৩,অপরাহ্ন ০৭ মে ২০২৩ | সংবাদটি ২০০ বার পঠিতসিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ধরপাকড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আশঙ্কা করছেন, সিটি নির্বাচনে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে এ ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে সাদা পোশাকে বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা কখনো স্বীকার করছে, কখনো আটকের নামে নাটক করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে সিলেট বিএনপি’র নেতারা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার পর্যন্ত সিলেটে ৫ দিনে তাদের দলের অন্তত ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিরাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তারা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকেই সিলেটে ধরপাড়ক চালাচ্ছে। ওইদিন বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সিলেটে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঝটিকা মিছিল বের করে। নগরের চৌহাট্টা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ঘটনার দিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় প্রায় দুই শ’ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করে।
ঘটনার সময় চৌহাট্টা এলাকা থেকে পুলিশ ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক যুবদল নেতা পারভেজ খান জুয়েল, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক যুবদল নেতা আব্দুস সালাম টিপু ও মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, ছাত্রদল নেতা জুনেদ হোসেন, রাজু আহমেদ, কামরুল হাসান, সাইফুল ইসলাম সোহাগ ও হাফিজুলসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করার পর অভিযান শুরু করা হয়। ৩ রাতের অভিযানে মহানগর বিএনপি’র সাবেক প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুস সবুর, ২৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ লাহিন, ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ডা. বদরুল ইসলাম, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলিবুর রহমান আলী, মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মির্জা হাবিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবদলের সদস্য সায়েফ আহমদ, ছাত্রদল নেতা ইমনসহ প্রায় ২০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা ডা. বদরুল ইসলামকে বুধবার রাতে তার দক্ষিণ সুরমার বাসা থেকে তুলে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রথমে তার আটকের বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। পরের দিন ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় দায়ের করা ২০২২ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করতে এ ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে মামলা নেই, তাদেরকে পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এই ধরপাকড় বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। এদিকে সিলেট নগরে চলমান ধরপাকড়ে চরম ক্ষুব্ধ বিএনপি দলীয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি গতকাল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘প্রতি রাতেই বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে। অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আটকের পর পেন্ডিং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ হতে পারে না। প্রশ্ন রাখেন কীসের ভয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। অতীতে সিলেটে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সিলেটের সম্প্রতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আঘাত করা হচ্ছে। এটা ভালো লক্ষণ নয় বলে জানান তিনি।’ মেয়র আরিফ জানান- ‘প্রশাসনের অনেকেই সিলেটের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করছেন। নগরে ভোটের পরিবেশে চেয়ে ভূতুরে পরিবেশ বিরাজ করছে।
জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব বলেই প্রশাসনকে দিয়ে সিলেট সিটিতে প্যাকেজ নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মেয়র আরিফ।’ মেয়র জানান- ‘সিলেটের শান্ত পরিবেশকে বিনষ্ট করার দায় দায়িত্ব প্রশাসনকে বহন করতে হবে। সিলেটের মানুষ কখনোই কোনো অন্যায়কে প্রশয় দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবেন না বলে মন্তব্য করেন মেয়র।’ এদিকে সিলেটে বিএনপি’র দলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও বাসাবাড়িতে পুলিশি তল্লাশির নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘কোনো উস্কানি ছাড়াই বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার ও বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পুলিশি তল্লাশির ঘটনায় সিলেটজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করতেই মূলত এই ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’









