পৃথিবী অনেক আগে ধ্বংস হয়ে গেছে!আমরা এখন কেয়ামতকাল পার করছি!
টাইম সিলেট ডট কম
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৪০:৫১,অপরাহ্ন ৩০ আগস্ট ২০১৯ | সংবাদটি ৪৮২ বার পঠিত
সালমান ফরিদ, সাংবাদিকঃ জামালপুরের সাবেক ডিসি কবীর সবদিক চিন্তা করে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন কি দেবেন না, তা নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই! বরং বিয়ে করলে তিনি একজন প্রতারক, নষ্টা এবং দোষি মেয়েকেই বিয়ে করবেন— এমনটি মনে হয়। একথা শুনে আমার নারীবাদী বন্ধুরা বেজায় খেপবেন! বকা দিয়ে কেউ কেউ আলু ভর্তা বানাবেন সালমান ফরিদকে! আমি জানি। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি সাধনকে দিয়ে পুরো নারী সমাজকে টেনে আনছি না বা দোষ দিচ্ছি না। ‘একজন’ হিসাবে তাকে দেখছি! যে আমার চোখে অপরাধী এবং এভাবে বলার পেছনে কারণও আছে। ভিডিও দেখে মনে হয়েছে, এটি তারই সাজানো অথবা একটি চক্রের ফাঁদ যার সাথে কোনোও এক অজানা স্বার্থের কারণে জড়িত আছে সাধন নিজেই। কেননা বারবার গোপন ক্যামেরার দিকে তার তাকানো, স্বপ্রণোদিতভাবে ডিসিকে তার রূপের মায়াজালে জড়িয়ে ফেলার অতি উৎসাহী তাড়না; ঘটনার সময় তার মাঝে লক্ষণীয় ছিল! তাকে দেখে মনে হয়েছে, কোথায় ভিডিও ক্যামেরা আছে এবং তা যে রেকর্ড হচ্ছে এমনটি সে জানে এবং এতে তার সায়ও আছে। তখন তার মাঝে কোন অপরাধবোধ বা সংকোচতাও লক্ষ্য করা যায়নি! অর্থাৎ প্লান মাফিকই হয়েছে সব কিছু!
তাই আমার মনে হয়, এই ঘটনা সাজানো এবং ডিসিকে অত্যন্ত নগ্নভাবে, বিচ্ছিরিভাবে ফাঁসানো হয়েছে! যে মিশনের একজন সদস্য সাধন নিজেই! তার এই ঘটনায় যতটানা ডিসি কবীর দায়ি, তারচেয়ে বেশি দায়ি সাধন!
সুতরাং প্রতারণা, সরকারি কর্মকর্তাকে যৌনকাজে প্ররোচনাদানকারী এবং পর্নোগ্রাফির অভিযোগে মামলা করা যেতে পারে সাধনার বিরুদ্ধে। ডিসি কি তা করবেন?
আমরা যারা— কেউ কেউ ডিসির শাস্তি দাবি করছি। কেউ কেউ তার ওএসডিতে খুশি, কেউ কেউ সাধনকে বিয়ে করা উচিৎ অথবা বিয়ে করবেন— এমন খবরে খানিকটা প্রশান্তি লাভ করছি, তাদেরকে বলছি, আপনাদের কী মনে হয়েছে? একা ডিসি সাহেব দায়ি? শুধুই ‘পুরুষ’ দায়ি? নাকি মনে হচ্ছে সাধনও দায়ি?
আমাদের একটা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে, আমরা যৌনতা দেখলে প্রথমেই ভেবে নিই, এর জন্য একক দায় পুরুষের! নারী এখানে শুধুই ভিকটিম। হেসে হেসে, গোপন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি হেসে পুরুষকে বুকে টেনে নিলেও, নিজেকে পুরুষের শরীরের আড়াল করে যৌনকর্মে লিপ্ত হলেও তার কোন দোষ খুঁজি না। যত দোষ সব পুরুষের! তবে এটা ঠিক, পুরুষের ভেতরে নোংরা ক্ষুধাটা ভয়াবহ! এই ক্ষধার কারণে পুরুষের ভেতরে ‘ডিসি’দের বসবাস বেশি! কিন্তু শুধুই কি ‘ডিসি’দের? ‘সাধন’দের বসবাস নেই কারও কারও ভেতরে?
আমাদের ভেতরে যতদিন ‘ডিসি কবীর’ আর ‘সাধন’রা বেঁচে থাকবে, ততদিন এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কিন্তু এটা ভাবা ঠিক নয় যে, ‘ডিসি’ আর ‘সাধন’রা সমাজ, রাষ্ট্র বা এই পৃথিবী থেকে কোনোও একদিন একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাবে! যদি কখনও যায়, তাহলে ধরে নিতে হবে, পৃথিবী অনেক আগে ধ্বংস হয়ে গেছে! সৌভাগ্যবশত আমরা তখন কেয়ামতকাল পার করছি!
সালমান ফরিদ,ফেসবুক থেকে কপি









